আজ শ্রীশ্রী লক্ষ্মীপূজা

২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

সনাতন ধর্মবিশ্বাসী বাঙালিদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শেষে কোজাগরি পূর্ণিমায় আজ শ্রীশ্রী লক্ষ্মীপূজা শুরু হবে। সাধ্যমত উপাচার সাজিয়ে ‘এসো মা লক্ষ্মী বসো ঘরে’ এই প্রার্থনায় সনাতন ধর্মবিশ্বাসী বাঙালিদের ঘরে ঘরে মঙ্গলবার ও বুধবার এ পূজা হবে।

পঞ্জিকা সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কোজাগরি পূর্ণিমা মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৩ মিনিটে শুরু হয়ে শেষ হবে বুধবার রাত আটটা ৫৬ মিনিটে। এ সময়ের মধ্যে বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পুজো দেবেন সকলে।

শারদীয় দুর্গাপূজা শেষে প্রথম পূর্ণিমাতিথিতে সনাতন ধর্মবিশ্বাসীরা ধন সম্পদের দেবী মা লক্ষ্মীর কৃপালাভের আশায় এ পূজা করে থাকেন।

শাস্ত্রীয় বিধি মেনে ফুল-জল-বিল্বপত্র সহকারে ব্রাহ্মণ পুরোহিত মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে পূজা সম্পন্ন করেন। আবার অনেক গৃহিনী লক্ষ্মীর পাঁচালী পড়েও পূজা দেন। সমৃদ্ধির আশায় নারী ও পুরুষেরা উপবাসব্রত পালন করে ফুল ফল মিষ্টি নৈবেদ্য দিয়ে আরাধনা করেন লক্ষ্মীমায়ের। পুজো উপলক্ষে বাসস্থানসহ মন্দির ম-পের আঙ্গিনা লক্ষ্মীদেবীর পায়ের ছাপসহ আঁকা হয় বিভিন্ন আল্পনা। এছাড়া রেওয়াজ অনুযায়ী পূজা শেষে প্রসাদ ছাড়াও নাড়–, খৈ- মুড়কি দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করা হয়।

বাংলার অসংখ্য প্রবাদ প্রবচন ও শব্দে মিশে আছে লক্ষ্মী। সনাতন ধর্ম বিশ্বাসী বাংলার ঘরে ঘরে যে ক’জন দেবদেবী নিত্য পুজো পান তাদের একজন হলেন লক্ষ্মীদেবী। এমন কোন ঘর নেই যেখানে একটি লক্ষ্মীর পট বা ছবি বা মূর্তি পুজো করা হয় না। এমন কোন সংসার নেই যে গৃহস্থের ঘরে একখানি লক্ষ্মীর আসন নেই। প্রতিবছর মহালয়ার অমবশ্যার পর শুক্লপক্ষে কোজাগরি পূর্ণিমা শুরু হওয়ার পরই ধর্মীয় সংস্কার মেনে প্রথা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় শ্রীশ্রী লক্ষ্মীপূজা। সংসারের অখ- সুখ ও দারিদ্রক্লেশ থেকে মুক্তি পেতেইে এ পূজার আয়োজন করেন সকলে।

উল্লেখ্য বাঙালি সনাতন ধর্মবিশ্বাসীদের মতে লক্ষ্মী ধনসম্পদ, আধ্যাত্মিক ও পার্থিব উন্নতি, আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও সৌন্দর্য্যরে দেবী। লক্ষ্মীদেবী দ্বিভূজা। তার বাহন হচ্ছে পেঁচা। অবশ্য বাংলার বাইরে লক্ষ্মীর চতুর্ভূজা কমলে-কামিনী মূর্তিই দেখা যায়। শারদীয় দুর্গোৎসব শেষে প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা লক্ষ্মীপূজা করে থাকেন। এছাড়া প্রতি বৃহস্পতিবার সধবা স্ত্রীগণ লক্ষ্মীদেবীর পূজা করে থাকেন।

মন্তব্য
Loading...