বাজেট বৈধতা দিতে খেলার নামে ‘প্রহসন’

অনূর্ধ্ব-১৭ বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল :

৩০১

 এম এ রাজা

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করার একটা প্রতিযোগিতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (অনূর্ধ্ব-১৭)। টুর্নামেন্টটি উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা দিয়ে শুরু হয়। উপজেলা পর্যায়ের টুর্নামেন্টটি আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা জেলা ক্রীড়া সংস্থা। উপজেলা পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় উপজেলার ইউনিয়ন দলগুলো অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে বাছাইকৃত সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠন করা হয় উপজেলা দল। একইভাবে জেলা ও বিভাগীয় দল গঠন করা হয়। সেই সাথে আয়োজক কমিটিও হয় বদল।

তবে চলতি বছর যশোরের ঘটেছে এর ব্যতিক্রম। গত ২৩ জুন খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হলেও যশোর জেলা পর্যায়ের খেলা শুরু হয়েছে শনিবার।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় যশোরে লকডাউনের কারণে নির্দিষ্ট সময় খেলা সম্পন্ন করা সম্ভাব হয়নি বলে জানান জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা খালিদ জাহাঙ্গীর। কিন্তু বাজেট বরাদ্দ থাকায় খেলাটি শনিবার শুরু করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সেই সময় জেলা প্রতিযোগিতা সম্পন্ন না করেই তাড়াহুড়ো করে দল গঠন করায় খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ের খেলায় ভরাডুবি হয় গত আসরের চ্যাম্পিয়ন যশোরের।

এদিকে শনিবার যশোর শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতাকে খেলা’র নামে ‘প্রহসন’ বলে উল্লেখ করেছে যশোরের ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব-১৭ বয়সী খেলোয়াড় খেলানোর কথা থাকলেও রোববার যশোর সদরের হয়ে খেলেছে বিশের অধিক বছর বয়সী খেলোয়াড়। এছাড়া চৌগাছা বালিকা দল খেলতে না আসলেও যশোরের একটি স্কুল দলকে খেলিয়ে টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব বিষয় লুকাতে মিডিয়াকে এড়িয়ে চলছেন বলে জানান স্থানীয় কয়েকজন ক্রীড়া সাংবাদিক।

রোববার যশোর সদরের খেলোয়াড় তালিকায় দেখা যায়, ২০১৯ সালে প্রতিযোগিতার খুলনা বিভাগীয় দলে অংশগ্রহণ করা খেলোয়াড়ের আধিক্য। দলে থাকা স্বাধীন, আরিফুর রহমান লাল খেলেছেন বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের হয়ে ২০১৭ সালে। এছাড়া এই দুজন যশোর প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগের প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়। একাদশে থাকা কারও বয়স ২০ এর নিচে নয় বলে উল্লেখ করেন সাবেক এক ফুটবলার।

এই বিষয়ের যশোর সদর উপজেলার ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করা জয়নাল আবেদিন বলেন, চলতি বছরে বয়সের বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়া হয়েছে।

যশোর থেকে প্রকাশিক দৈনিক গ্রামের কাগজের ক্রীড়া প্রতিবেদক আবুল বাশার মুকুল বলেন, অনূর্ধ্ব-১৭ বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট হচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করার একটা টুর্নামেন্ট। কিন্তু যেভাবে হচ্ছে তাতে এর সাফল্য নিয়ে শঙ্কাটাই ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রীড়াঙ্গনে। বিশেষ করে যশোরের এ আয়োজনকে নিছক দায়সারা ছাড়া আর কিছুই বলা যাচ্ছে না। হঠাৎ করে ঘোষণা, দলগঠন ও অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে তড়িঘড়ি উপজেলা পর্যায়ে খেলা শুরুর ফলে কি হয়েছে তা সবাই দেখেছে। এবার জেলা পর্যায়ের খেলায় আরো খারাপ অবস্থা।

তিনি আরো বলেন, আগে আমরা দেখেছি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন সাব-কমিটি গঠন করা হয়। প্রত্যেক কমিটি নিজেদের দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করে কিনা তা তদারক করেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। কি হবে বা হচ্ছে তা মিডিয়াকে জানানো হয় টুর্নামেন্ট শুরুর আগে। এবার কোন কিছুই দেখা যাচ্ছে না। জেলা ক্রীড়া অফিসার আয়োজক কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্বে থাকলেও সবাইকে নিয়ে কাজ করার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে জানান জেলা বয়সভিত্তিক দলের সাবেক এই খেলোয়াড়।

যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্মসাধারণ সম্পাদক এবিএম আক্তারুজ্জামান বলেন, টুর্নামেন্টের বিভাগীয় পর্যায় খেলা সম্পন্ন হয়েছে। জেলা পর্যায়ের খেলার তেমন কোন গুরুত্ব নেই। কিন্তু বাজেট ফেরত যাবে বলে টুর্নামেন্টটা সম্পন্ন করা হচ্ছে। এছাড়া খেলোয়াড়রা যাতে কিছু খেলা খেলতে পারে তাই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে।

এই বিষয়ে জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা খালিদ জাহাঙ্গীর বলেন, প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী অনূর্ধ্ব-১৭ বয়সীর অধিক কেউ খেলতে পারবে না। আমি টুর্নামেন্টটি শুরু করে দিয়ে ঢাকায় চলেছি এসেছি তাই বলতে পারছি না। এছাড়া মিডিয়া এড়িয়ে চলার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, টুর্নামেন্টের রেজুলেশন প্রেসক্লাবে দেয়া হয়েছে।

এক কথায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এর জেলা পর্যায়ের খেলা আয়োজন মারাত্মক অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

মন্তব্য
Loading...