আলাদা জমি পেলে মাঠ তৈরি করে দেব : কাজী এনাম আহমেদ

৭৬

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সুযোগ-সুবিধা। আর এটা শুধু যশোর নয়, সারা দেশেই সমস্যা। একটা স্টেডিয়াম বানাতে অনেক খরচ। কিন্তু একটা স্টেডিয়াম বানালেই যে, সেখানে খেলা হবে সেটা কিন্তু না। কিন্তু সব যায়গাতে আমরা স্টেডিয়াম বানায়। আর এই স্টেডিয়াম মাঠ নিয়ে ধাক্কা-ধাক্কি, রেষারেষি লেগেই থাকে। এতে বছরের কিছু সময় পার হয়ে যায়। তাতে ঠিক মত লিগ হয় না। ক্রিকেটের জন্য আলাদা মাঠ হলে স্টেডিয়ামে সব খেলা সহজে হতে পারতো।

যশোর ক্রীড়াঙ্গণের সার্বিক কল্যাণ নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, বাংলাদেশ ক্রির্কেট বোর্ড পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ। মঙ্গলবার যশোর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও যশোর জেলা ক্রীড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্যানেল খেলাধুলা উন্নয়ন ও অগ্রগতি পরিষদের আয়োজনে এ মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়।

যশোর শহরের কাজীপাড়ায় নিজ বাসায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ইনাম আহমেদ আরও বলেন, যশোর ক্রিকেট উন্নয়নে আলাদা মাঠ প্রয়োজন। আমাকে যশোরে একটা আলাদা জমি দেন, তাহলে আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে টাকা নিয়ে এসে মাঠ করে দিব। সেই সাথে ইনডোর করার জন্য ক্রিকেট বোর্ডের সাথে কথা বলবো। আমি এটা নিয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপ করেছি বিষয়টা উনি দেখবেন বলে জানান ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের এই পরিচালক।

তিনি আরও বলেন, একটা স্টেডিয়াম না বানিয়ে যদি তিনটা মাঠ করে সেটার একটায় ফ্লাড লাইট, ইনডোরসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা যায় তাহলে ওই এলাকার খেলাধুলায় আরও উন্নত হবে। সেই চিন্তা থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখন স্টেডিয়ামের দিকে না ঝুঁকে মাঠ কেনার দিকে যাচ্ছে।

যশোরে পূর্ণাঙ্গ একটা একাডেমি করার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যদি ভালো একাডেমি, ইনডোর ফ্যাসিলিটিজ, সুইমিংপুল যদি যশোর হত তাহলে শুধুমাত্র এই জেলার খেলোয়াড়রা নয় পুরো খুলনা বিভাগের খেলোয়াড়রা সুযোগ সুবিধা পেত। কেননা খুলনা বিভাগের প্রধান কেন্দ্র যশোর। এই জন্য এই গুলো কিভাবে সেটা যশোর করা যায় সেটা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। বাংলাদেশের সব থেকে বড় প্লেয়ার কিন্তু খুলনা বিভাগের। খুলনা বিভাগে অনেক মেধাবী ক্রিকেটার আছে। যা দেশের আর কোথাও নেই।

যশোরে নিয়মিত লিগ না হওয়াটা একটা দুঃজনক বিষয়। একটা ম্যাচ খেলা সাতদিনের প্রাকটিসের সমান। ম্যাচই যদি না হয়, তাহলে প্রাকটিসে কিছুই হবে না। মাঠে তো খেলা খাকতে হবে। ক্রিকেট নিয়ে মানুষের এখন আগ্রহ রয়েছে। লিগ করলেই প্লেয়ার নিয়ে দল বানাবে ক্রীড়ামোদীরা। লিগ চালালে প্লেয়ার কিন্তু বের হয়ে যাবে। ২০০২ সালের দিকে যশোর থেকে অনেক খেলোয়াড় বের হত। নিয়মিত লিগ ইমরানুজ্জামানের মত আরও অনেক ক্রিকেটার বের হবে।

গত আট বছর আমি যশোর থেকে প্রতিনিধি হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে আছি। তবে আমার আরও আগে থেকে বসা উচিত ছিল। এই রকম আলাপ আলোচনা আমাদের নিয়মিত দরকার। সমস্যা গুলো লিখিত দিলে সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের সাথে বলে আলাপ করে সমাধান করার চেষ্টা করবো। এছাড়া সাবেক ক্রিকেটদের নিয়ে একটা গ্রুপ করে নিয়মিত যোগাযোগ করে আইডিয়া দেয়ার কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রীড়াবন্ধব জানিয়ে বলেন, আমরা যদি শুধু ক্রিকেটে, ফুটবল বা আর্চারিতে ভাল করি তাহলে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন হবে না। ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য সব খেলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনেক সাপোর্ট আছে। তিনি সব সময় চান খেলাধূলার উন্নয়ন করতে।

মতবিনিময় সভায় যশোর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি এবং খেলাধুলা উন্নয়ন ও অগ্রগতি পরিষদের সম্বনয়ক আসাদুজামান মিঠুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ক্রীড়া সংগঠক ওয়াজেদ আলী মোড়ল, শরিফুল ইসলাম চৌধুরী সরু, খান মোহাম্মদ শফিক রতন, সাঁতার কোচ ও ডিএফএ’র সহ সভাপতি আব্দুল মান্নান, যুগ্ম সম্পাদক নুরুল আরিফিন, কোষাধ্যক্ষ মফিজুর রহমান ডাবলু, সদস্য আশরাফুল ইসলাম, সৈয়দ তৌফিক জাহান, রফিউজ্জামান লাবলু, বিসিবি জেলা কোচ আজিমুল হক আজিম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী সদস্য শামীম এজাজ, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার সৈয়দ রাসেল, জেলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বাশার, ক্রীড়া সংগঠক মনিরুজ্জামান মিন্টু, শেখ মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, ইমরুল হোসেন, জাবেদ আলী, শেখ মোহাম্মদ ইব্রাহীম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সংগঠক হিসেবে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়া যশোর-৩ আসনের সংসদ ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদকে অভিনন্দন জানানো হয়।

মন্তব্য
Loading...