যশোর শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়াম মাঠের বেহাল দশা

৪৪৪

এম এ রাজা

গতকয়েক বছর ধরেই যশোর শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়ামে সামান্য বৃষ্টিতেই হাটুুপানি জমে খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। নালা (ড্রেনেজ) ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই অথৈ পানিতে তলিয়ে যায় মাঠ। স্টেডিয়ামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় নিয়মিত খেলা, অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খেলোয়াড়রা। এ নিয়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে উদীয়মান খেলোয়াড়, ফুটবল ও ক্রিকেট অনুরাগী মানুষের মধ্যে।

তবে চলতি বছর সেই ক্ষোভটা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। জলাবদ্ধ এই মাঠে সারাদিনই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বহিরাগতরা। আর এতে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে মাঠে। এছাড়া ক্রিকেট পিচের উপর ফুটবল খেলায় নষ্ট হয়ে গেছে পিচের উপর অংশ। যা নতুন করে তৈরি করা ব্যয়বহুল। সেই সাথে আগামী শুষ্ক মৌসুমে মাঠ খেলার উপযোগী করা কঠিন হয়ে যাবে। বলা যায়, মাঠ রক্ষণাবেক্ষণে কর্তৃপক্ষের কোনো দৃষ্টি নেই। অথচ স্টেডিয়ামের সার্বিক দেখাশোনার জন্য রয়েছেন তত্ত্বাবধায়কসহ নয়জন কর্মচারী। দায়সারাভাবে আমেনা খাতুন ভিআইপি ক্রিকেট গ্যালারির পাশের গেটে কুলের কাঁটা দিয়ে রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক খেলোয়াড় বলেন, পিচের যে ক্ষতি হয়েছে এইটার জন্য অন্তত তিন ইঞ্চি উপর থেকে ফেলে দিয়ে নতুন করে টপ ড্রেসিং করতে হবে। নয়তো পিচের অবস্থা ভাল থাকবে না। পাড়া-মহল্লার খেলার জায়গা এখন স্টেডিয়াম। ছোটবেলায় আমাদের স্বপ্ন ছিল কবে আমরা স্টেডিয়ামে খেলতে পারবো? কখনোই খালি পায়ে মহল্লার কিংবা কলেজের ছেলেরা এখানে ঢুকতে পারেনি।

যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মচারী দিলীপ কর্মকার বলেন, স্থানীয় ছেলেরা সকাল হলে খেলতে চলে আসে। আমরা প্রতিনিয়ত নিষেধ করি। আমাদের কথা শোনে না। এমনকি আমাদের ধরে মারতে যায়।

যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্মসম্পাদক এবিএম আক্তারুজ্জামান বলেন, পৌর পার্কের ওই দিকে গেটের একটা স্থানে ফাঁকা রয়েছে। ওই স্থান দিয়ে ও গেট টপকে জুনিয়র কিছু ছেলেরা মাঠে খেলতে আসে। আমরা নিষেধ করেছি। এমন কি পুলিশ দিয়েও বলা হয়েছে তাও শোনে না। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। আমাদের কিছু করার নাই। তবে পানি সরে গেলেও আবার মাঠ খেলার উপযোগী হয়ে যাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মন্তব্য
Loading...