আশ্রয়ণ প্রকল্প যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়

১২

বাংলাদেশ সরকারের এক নন্দিত উদ্যোগ মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের গৃহ প্রদান। যে উদ্যোগে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় দুই দফায় জানুয়ারি এবং জুন মাসে এক লাখ ২৩ হাজার ২৪৪টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে দুই শতক জমির মালিকানাসহ সেমিপাকাঘর উপহার দেওয়া হয়। দলিলে জমির মালিকানা স্বামী ও স্ত্রীর যৌথ নামে করে দেওয়া হয়েছে। তাদের নামে স্থায়ী দলিলের পাশাপাশি নামজারি করে খাজনা দাখিলাও দেওয়া হয়েছে। সেমিপাকাঘরে আছে দু’টি কক্ষ, একটা বড় বারান্দা, রান্নাঘর ও টয়লেট।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ১৯ মে কক্সবাজার জেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হওয়ায় বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই এলাকা পরিদর্শনে যান। তিনি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল হয়ে পড়েন এবং সকল গৃহহীন পরিবারসমূহকে পুনর্বাসনের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালে ‘আশ্রয়ণ’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

ভূমিহীন দরিদ্র ঠিকানাহীন ভাসমান মানুষের আশ্রয়ণ নিয়ে তেমন কোন উদ্যোগ আগে কখনো দেখা যায়নি। যদিও প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার বসবাসের জন্য একটি ঠিকানা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্যোগটি গ্রহণ করেছেন। যা বিশে^ এক বিরল উদ্যোগ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রসংশিত হয়েছে।

জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়েতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি দেশের গ্রাম থেকে শহরে, নগরে বন্দরে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিচ্ছেন। দেশ এখন আক্ষরিক অর্থেই উন্নয়নের মহাসড়কে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য কিছু স্বার্থান্বেষী সুযোগ সন্ধানী মহলের অপতৎপরতায় অনেক ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একইভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও প্রকৃত ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত বাড়ি কিছু অসৎ লোভী ধনী মানুষ ভূমিহীন সেজে বরাদ্দ নিয়েছেন। এ স্বার্থান্বেষী মহলের জন্য বিশে^র ইতিহাসে বিরল এমন প্রকল্পটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। যা কারো কাম্য হতে পারে না।

বৃহস্পতিবার দৈনিক প্রতিদিনের কথাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মধুপুর মৌজায় দুটি খাস জমিতে ভূমিহীনদের জন্য ৩৭টি ঘর নির্মিত হয়েছে। যেখানে দুই ধনী ব্যক্তির কব্জায় রয়েছে ১১টি ঘর। সুযোগ সন্ধানী এসব মানুষকে কঠোর হাতে দমন করে প্রকৃত ভূমিহীন গৃহহীন মানুষ যেন তার মাথা গোঁজার ঠাঁই পায়, এজন্য যাচাই-বাছাইয়ে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে। একইসাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে হতে হবে সচেতন। তবেই পাওয়া যাবে সুফল।

মন্তব্য
Loading...