মাগুরায় সাপ-পোকার আতঙ্কে গ্রামবাসী

২৫

মাগুরা প্রতিনিধি

পোকা নাকি সাপ না অন্যকিছু! এমন আতঙ্কই কাজ করছে মাগুরা শ্রীপুরের বরিশাট গ্রামের চৌধুরি পাড়ায়। দিন বা রাতের যে কোন সময় শরীরে জ্বারাপোড়াসহ জ্ঞান হারানোর মত ঘটনা শুরু হয়েছে গেল সপ্তাহ থেকে। এরপর অত্র এলাকার প্রায় ২ শতাধিক মানুষের মাঝে ছড়িয়ে গেছে কামড়ে আতঙ্ক।

শরীরে লাল দাগ বিশেষ করে পা ও হাতেই বেশি দেখা গেছে ভুক্তভোগীদের। আবার দাগ ছাড়াও কেউ আক্রান্ত হচ্ছেন। কেউ কাজ করার সময় আক্রান্ত হচ্ছেন কেউ বা ঘুম থেকে উঠে। এমনটাই বলছেন গ্রাম্য চিকিৎসক ও ওঝা আনসার আলী শেখ।

তিনি নিজেই গত পনের দিন ১০০’র বেশি ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন দাবি করছেন। স্থানীয় পিকুল শেখ বলেন, আমাদের এলাকার প্রায় শখানিক মানুষ এই পোকা না অন্যকিছুর কামড় খেয়েছে। আমার নিজেরও গতকাল (রোববার) রাত ২টায় শরীর কাঁপুনিসহ কামড়ানোর স্থানে প্রচুর জ্বালাপোড়া করছিল। তারপর ওঝার নিকট গেলে সে বিষ নামিয়ে ঠিক করে দেয়।

ঐ এলাকার মুদি দোকানি ফিরোজ মোল্যা জানান, আমার পরিবারের ৪ জনকেই কামড় দিয়েছে। আমরা খুব ভয়ে আছি। মানুষ বলছে এটা জ্বীন সাপ। কারণ কিসে কামড় দিচ্ছে কেউ চোখে দেখিনি। আমি ও টের পাইনি।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা বলছেন, তাদের প্রায় প্রতিটি বাড়ির সদস্যদের এই অজানা পোকার কামড় খেয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে কোন বয়সীরাই বাদ যাচ্ছে না বলে তারা দাবি করছেন।

তারা বলছেন, ওঝার কাছে গেলে তারা ঝাড়ফুঁক করে বিষ নামিয়ে দিচ্ছে। বিনিময়ে যে টাকা দেয়া হচ্ছে তাই নিচ্ছে ওঝারা।

বরিশাট গ্রামের এই ঘটনায় সরেজমিন পরিদর্শন করেন মাগুরা স্বাস্থ্যবিভাগের একটি দল। স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন তারা। সেই সাথে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানেন। দলটির প্রধান মাগুরা সিভিল সার্জন শহীদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, আমরা এখানে এসে বুঝতে পারলাম পুরো বিষয়টি মানুষের মাঝে একরকম গুজবের মত ছড়াচ্ছে। এখানে যাদের কামড় দিয়েছে হয়তো কোন পোকার কামড়ে তাদের শরীরে এমন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সবাই সুস্থও হয়ে গেছে শুনেছি।

তিনি আরও বলেন, তবু বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি। সে জন্য মাগুরা সদর থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম কাজ করছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য
Loading...