যশোরে শনাক্ত ছাড়ালো নয় হাজার

৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় একদিনে যশোরে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। একই সাথে শনাক্ত ছাড়ালো নয় হাজার। শুক্রবারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এদিনে ৫৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৪৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। যার শতকরা শনাক্ত ৪৪ দশমিক ৩ জন। যা জেলায় এপর্যন্ত সর্বোচ্চ শনাক্ত। এনিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত সংখ্যা দাঁড়ালো নয় হাজার ২৪১ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় আরো চার জনের মৃত্যু হয়েছে। গতবছরের ১২ এপ্রিল যশোরে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়।

গত দশদিনে জেলায় শনাক্ত সংখ্যা এক হাজার ৬০৯ জন। এর আগের দশদিনে শনাক্ত সংখ্যা ছিল ৭২৯ জন। এর মধ্যে চলতি মাসের ৬ তারিখে শনাক্তের সংখ্যা শতক ছাড়ায়। এরপর প্রতিদিনই আগের শনাক্ত ছাড়াই পরের শনাক্ত সংখ্যা।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে, ইয়োলো জোনে দুইজন ও রেড জোনে একজন। ইয়োলো জোনে মৃত হলেন সদর উপরজলার চাঁচড়া এলাকার জাহঙ্গীর হোসেন, বাঘারপাড়া উপজেলার হাগড়া এলাকার নুরজাহান। এছাড়া রেড জোনে মৃত্যুবরণ করেছেন ঝিকরগাছা উপজেলার কুমারী গ্রামের জাহানারা। হাসপাতালের রেড জোনে ভর্তি রোগী আছে ৮৪ জন ও ইয়োলো জোনে ভর্তি আছে ৩০ জন। এছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে কেশবপুরের নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফজিলা বেগমের মৃত্যু হয়।

সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুন মঙ্গলবার ৩৪৬ নমুনায় শনাক্ত ৯৯ জন। শতকরা ২৮ দশমিক৬ জন। ২ জুন বুধবার ২৩৪ নমুনায় শনাক্ত সংখ্যা ৪৭ জন। শতকরা ২০ জন। ৩ জুন বৃহস্পতিবার ২৮৯ নমুনায় শনাক্ত সংখ্যা ৭২ জন। শতকরা ২৫ জন। ৪ জুন শুক্রবার ২৩৪ নমুনায় শনাক্ত সংখ্যা ৫৪ জন। শতকরা ২৩ জন। ৫ জুন শনিবার ১৩৯ নমুনায় শনাক্ত ৩৮ জন। শতকরা ২৭ দশমিক ৫ জন। ৬ জুন রোববার জেলায় ৩৬৬ জনের নমুনার ফলাফলে ১০৫ জনের শরীরে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যার শতকরা শনাক্ত ৩০ জন। ৭ জুন সেমবার ৩১৩ নমুনায় শনাক্তের সংখ্যা ১০৪ জন। যার শতকরা শনাক্ত ৩৩ জন। ৮ জুন মঙ্গলবার ২৯৯ জনের নমুনার ফলাফলে শনাক্ত সংখ্যা ১২২ জন। যার শতকরা শনাক্ত ৪১ জন। ৯ জুন বুধবার ৪২১ জনের নমুনার ফলাফলে শনাক্ত সংখ্যা ১৫২ জন। যার শতকরা শনাক্ত ৩৬ জন। ১০ জুন বৃহস্পতিবার ৪৪৬ জনের নমুনার ফলাফলে শনাক্ত সংখ্যা ১৯৪ জন। যার শতকরা শনাক্ত ৪৩ দশমিক ৫ জন। ১১ জুন শুক্রবার ২৮৪ জনের নমুনার ফলাফলে শনাক্ত সংখ্যা ৭৮ জন। যার শতকরা শনাক্ত ২৭ জন। ১২ জুন শনিবার ২০৬ জনের নমুনার ফলাফলে শনাক্ত সংখ্যা ৬১ জন। যার শতকরা শনাক্ত ৩০ জন। ১৩ জুন রোববার ৪০৩ জনের নমুনার ফলাফলে শনাক্ত সংখ্যা ১৫০ জন। যার শতকরা শনাক্ত ৩৭ দশমিক৩ জন। ১৪ জুন সোমবার ২৫২ জনের নমুনার ফলাফলে শনাক্ত সংখ্যা ৯২ জন। যার শতকরা শনাক্ত ৩৬ দশমিক ৫ জন। ১৫ জুন মঙ্গলবার ৫১১ জনের নমুনার ফলাফলে শনাক্ত সংখ্যা ২৩৫ জন। যার শতকরা শনাক্ত ৪৬ জন। ১৬ জুন বুধবার ৪০৯ জনের নমুনার ফলাফলে শনাক্ত সংখ্যা ২০৬ জন। যার শতকরা শনাক্ত ৫০ দশমিক ৪ জন। ১৭ জুন বৃহস্পতিবার ৪৬৪ জনের নমুনার ফলাফলে শনাক্ত সংখ্যা ১৯৪ জন। যার শতকরা শনাক্ত ৪২ জন। ১৮ জুন শুক্রবার ৫৫৮ জনের নমুনার ফলাফলে শনাক্ত সংখ্যা ২৪৭ জন। যার শতকরা শনাক্ত ৪৪ দশমিক ৩ জন।

সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. রেহেনেওয়াজ রনি জানান, শুক্রবার আমাদের কাছে আসা ফলাফল অনুযায়ী একদিনে ২৪৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যশোরে পিসিআর ল্যাব থেকে দেওয়া ফলাফলে ৫৫৮ জনের নমুনায় ২৪৭টি পজিটিভ। এর মধ্যে যবিপ্রবি ল্যাবে ৫৩৮ নমুনায় ২৪৭ জন ও খুলনা ল্যাবে বিশ জনের নমুনায় সবগুলো নেগেটিভ। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ছয় হাজার ৭৪০ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৮৪ জন।

সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, যশোরে করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে আমারা প্রতিনিয়তই মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করে চলেছি। অনেকে মানছে, আবার অনেকে এড়িয়ে চলছে। বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করলে দেখা যায় সচেতনতা ছাড়া বাঁচার কোনো উপায় নেই। তাই সকলকে স্ব স্ব স্থান থেকে সচেতন হতে হবে। নিজে বাঁচার জন্য নিজেকেই সচেতন হতে হবে।

মন্তব্য
Loading...