গোপীকান্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির পাল্টাপাল্টি মামলা

৯৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর

যশোর মণিরামপুরের গোপীকান্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দরা মামলা পাল্টা-মামলা, হুমকি-ধামকিতে জড়িয়ে পড়েছেন। প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীনকে সাময়িক বরখাস্ত করায় শিক্ষক/কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলাসহ হুমকি-ধামকি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে বিদ্যালয় এলাকার সাধারণ জনগণ বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিতাই চন্দ্র পাল বলেন, বিদ্যালয়ে জাতীয় দিবস পালন না করা এবং অনুমতি ছাড়াই লাগামহীন বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকার অভিযোগে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি ২৬ মার্চ প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীনকে কারণ দর্শানো নোটিশ করে। এরপর চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বিদ্যালয়ের নামে রিজার্ভফান্ড থেকে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ এবং ভুয়া কমিটি দেখিয়ে সোনালী ব্যাংক থেকে বিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিল থেকে টাকা উত্তোলন করার অভিযোগে ম্যানেজিং কমিটি গত ১৮ মে প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করে।

অভিযোগ রয়েছে, তাকে দেওয়া নোটিশের জবাব না দিয়ে তিনি (প্রধান শিক্ষক) পেশিশক্তি ব্যবহার করে চলেছেন। বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আব্দুল গণি ১৮ মে বিকেলে নোটিশ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে গেলে তাকে জিম্মি করে রাখা হয়। একইসাথে কমিটির সদস্য মতিয়ার রহমানকে লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করা হয়। রাতে পুলিশের সহযোগিতায় আব্দুল গণিকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মতিয়ার রহমান ২০ মে মণিরামপুর থানায় জালাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে মণিরামপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরি নং- ৮১৯।
এসব ঘটনার পর স্কুল এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২৫ মে জালাল উদ্দীন এলাকার প্রভাবশালী আব্দুল আজিজসহ ১০ থেকে ১২ জনের সংঘবদ্ধ একটি দল সভাপতি নিতাই চন্দ্র পালের বাড়িতে অতর্কিত হামলা করে। এ ঘটনায় নিতাই চন্দ্র পাল মণিরামপুর থানায় ৪ জুন একটি মামলা দায়ের করেন। যে মামলার আসামি হলেন বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীন, তার ছেলে আব্দুল কাইয়ুম, আব্দুল আজিজ সরদারসহ ৫ জন।

এদিকে, চেক জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ ও ভুয়া কমিটি দেখিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের অভিযোগে ৩০ মে জালাল উদ্দীনকে সাময়িক বরখাস্ত করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। তাকে বরখাস্ত করার পর জালাল উদ্দীন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অসীম রায়, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজল কুমার পাল, আব্দুল মতিন, শিক্ষক আব্দুল জলিল, ইমরান আলী, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিতাই চন্দ্র পাল, তার ভাই গৌর চন্দ্র পাল, অজয় পাল ও কমিটির সদস্য মতিয়ার রহমান, দিপক দাস ও মশিয়ার রহমানকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালতে দায়েরকৃত মামলার পিটিশন মামলা নং ৪১২/২১। বিজ্ঞ আদালত বাদির অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জালাল উদ্দীনের দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালে ২৪ জানুয়ারি বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। এতে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে অসীম রায়কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইসাথে এ পদের জন্য আবেদনকারীর একই বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক রবিউল ইসলামের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা এবং আয়া পদে নিয়োগের লোভ দেখিয়ে দু’জনের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এক প্রশ্নে নিতাই চন্দ্র পাল বলেন, অসীম রায়কে নিয়োগের সময় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ছিলেন জালাল উদ্দীন। পদাধিকার বলে নিয়োগ কর্তা তিনিই হবেন। ফলে ম্যানেজিং কমিটিকে এককভাবে টাকা দিয়েছেন এসব কথা আদৌ সত্য নয়। এছাড়াও মামলার আরজিতে যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা বলে হয়েছে তারাই অভিযোগ কেন করেননি গত এক বছর।

সভাপতি নিতাই চন্দ্র পাল আরও বলেন, ১৯৯২ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টি। শুরুতেই যা করা হয়েছিলো তার বাইরে গত ১৯ সাল পর্যন্ত একটি ইটও পড়েনি। প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীন এর আগেও অনেক শিক্ষক/কর্মচারীকে নিয়োগ দিয়েছেন। আমি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে আসার পর একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও ১০ লাখ টাকা ব্যায়ে একটি ভবনের কাজ চলমান রয়েছে।

অপর দিকে প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীন বলেন, আমাকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্রমূলক কয়েকটি কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। এমনকি আমাকে সাময়িক বহিষ্কার পত্রাদেশও দেওয়া হয়েছে, যেটা আমি মানি না। এছাড়া আমাকে ও আমার ছেলের বিরুদ্ধে তারা হয়রানিমূলক মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, জানতে পেরেছি প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীন বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের সভাপতিসহ সদস্যদের নামে মামলা করেছেন। যেটা প্রধান শিক্ষককের ভুল হয়েছে। অপরদিকে সভাপতিও প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। যাতে নিজেদের মধ্যে একটা সাংঘর্ষিক পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় এলাকার সাধারণ জনগণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ফলে বিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খলা পরিবেশ বজায় রাখতে বিষয়টি দ্রুত মীমাংসা কারার চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য
Loading...