মাগুরায় দুই বিচ্ছিন্ন দেহের মাথার খোঁজে সিআইডি পুলিশ

0 ১০

মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরায় একাধিক হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটলেও ২টি হত্যাকা- ঘটেছে, যেখানে হত্যাকা-ের শিকার ব্যক্তিদেরকে করা হয়েছে একাধিক খ-ে খ-িত। আর এই খ-িত ব্যক্তিদের দেহ থেকে মাথা করা হয়েছে আলাদা। তবে পুলিশ কিংবা সিআইডি কেউই এখন পর্যন্ত তাদের খ-িত মাথার সন্ধান করতে পারেনি। মরদেহকে মাথা ছাড়াই দিতে হয়েছে কবর। রোববার সকালে মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের কালুকান্দি গ্রাম থেকে আজিজুর রহমান (৩০) নামে এক যুবকের খ-িত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। যেখানে পাওয়া যায় মাথাবিহীন দেহ ও একটি পা। এ ঘটনার ৪ দিন পার হলেও মাথা ও একটি পা এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। নিহত আজিজুর রহমানের বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার সংকোচখালী গ্রামে। তবে তিনি মহম্মদপুর উপজেলার বানিয়াবহু গ্রামে নানা আবুল কাশেমের বাড়িতে থেকে বড় হয়েছেন। ওই যুবক মাগুরা সদর উপজেলার ইছাখাদা গ্রামে বিয়ে করেন। সবশেষে ওই গ্রামেই একটি ভাড়া বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকছিলেন তিনি। পরনে থাকা পোশাক দেখে তার মরদেহ শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। ওই ঘটনায় সোমবার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মহম্মদপুর থানায় হত্যা ও লাশ গুমের মামলা করেন নিহত যুবকের ভাই হাবিবুর রহমান।

এর আগে ২০১৯ সালের ২ জুলাই মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পারুয়ারকুল গ্রামের একটি মাঠ থেকে এক যুবকের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। যেটির মাথা এখনো উদ্ধার হয়নি। প্রথমে অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করলেও পরে মরদেহের পাশে থাকা একটি স্যান্ডেলের সূত্র ধরে ওই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করে তার পরিবার। হত্যাকা-ের শিকার ওই যুবকের নাম ইমন হোসেন (২২)। তিনি সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের ইসলাম মোল্লার ছেলে। ওই ঘটনায় নিহত যুবকের বাবা ইসলাম মোল্লা হয়ে মহম্মদপুর থানায় অপহরণসহ হত্যা মামলা করেন। সেখানে সিরিজদিয়া গ্রামের মৃত ঠান্ডু ফকিরের ছেলে হুমায়ুন ফকির (২৭), একই গ্রামের লাকু ফকিরের ছেলে অনিক ফকিরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে মামলাটি তদন্ত করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একবার অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়। তবে বাদীর নারাজির ভিত্তিতে আদালত মামলাটি পুনঃ তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে দিয়েছিল।

মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছিলেন মাগুরা ডিবি পুলিশের এসআই মো. আবুল কাশেম। তিনি বলেন, ওই মামলায় একাধিক সাক্ষী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সে অনুযায়ী অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। আসামিরা আদালতে স্বীকার না করলেও মৌখিকভাবে পুলিশকে বলেছিল লাশের মাথা বিনোদপুর সেতুর নিচে নবগঙ্গা নদীতে ফেলেছিলেন তারা। তবে জাল টেনে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। মামলাটি এখন তদন্ত করছেন মাগুরা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক আকরাম হোসেন।

তিনি বলেন, মামলাটি তদন্ত শেষে অনুমোদনের জন্য সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘নারী ও প্রেমঘটিত দুটি বিষয় নিয়ে খুন হয়েছিলেন ওই যুবক। তিনজন সাক্ষীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ বেশ কিছু প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পারে পুলিশ। আশা করছি, ঘটনায় জড়িত আসামিরা কঠিন শাস্তি পাবে।’ তবে এই মামলায় সব আসামি এখন জামিনে মুক্ত আছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

এদিকে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হত্যাকা- ও মাথার সন্ধান না পাওয়া সম্পর্কে মাগুরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা সম্ভাব্য কয়েকটি কারণ সামনে নিয়ে তদন্ত করছি। শিগগিরই এই হত্যা রহস্যের জট খুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্তব্য
Loading...