যশোরে কঠোর বিধিনিষেধ পালনে প্রশাসনের জোরদার

অনীহা জনসাধারণের

0 ৯০

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরে করোনার সংক্রমণ ক্রমেই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ছিল যশোর ও নওয়াপাড়া পৌর এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রথমদিন। বিধিনিষেধ পালনে এদিনে কঠোর অবস্থানে ছিল প্রশাসন। জোরদার তৎপরতার মধ্যেও প্রশাসনের ফাঁকি দিয়ে এলোমেলো ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে অনেকের।

সরেজমিনে যশোর শহরের দড়াটানা মোড়সহ বিভিন্ন বাজার ও মার্কেটে মানুষের এলোমেলো ঘুরতে দেখা গেছে। অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক। ছিল না স্বাস্থ্যবিধি। এক রিকশা ও ইজিবাইকসহ ছোট যানবাহনে ঘোষণার চেয়ে বেশি জনকে চলাচল করতে দেখা গেছে। অধিকাংশ চায়ের দোকানে ছিল আড্ডা। পুলিশ বা গণমাধ্যমের ক্যামেরা দেখে মুখে মাস্ক পড়ছে বা সচেতনতার ভাব ধরছে। দূরে যেতেই আবার একই অবস্থানে ফিরছে অনেকে।

জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, যশোর ও নওয়াপাড়া পৌর এলাকায় সাতদিনের চলমান বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের প্রথম দিনে প্রশাসন থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়। যশোর পৌর এলাকায় ১৩টি ফিডার রোড এই দিনগুলোর জন্য বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর আওতায় ঢাকা রোড (বারান্দিপাড়া), ডিআইজি রোড, পলিটেকনিক রোড, ঘোপ বাবলা তলা, চাকলাদারের বাড়ির সামনের রোড, পুরাতন কসবা লিচু তলা রোড, ধর্মতলা মোড়, চাঁচড়া বাজার, যশোর কলেজ রোড, সন্ন্যাসি দিঘির পাড়, শংকরপুর বটতলা, শংকরপুর বাবলা তলা ও বেজতলা মেইন রোড বিআরটিএ অফিসের সামনের রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে। যশোর শহরে দশটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব চেকপোস্টে পুলিশের একজন এসআই, একজন এএসআই, চার জন কনেস্টবল ও দুজন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাতজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে এসব চেকপোস্ট এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি টিমও মাঠে রয়েছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রত্যেক ওয়ার্ডের ভেতরে কাউন্সিলরগণ নিজেদের দায়িত্বে ওয়ার্ডগুলো থেকে বাইরে চলাচল সীমিত করার উদ্দেশ্যে কয়েকটি প্রবেশপথ খোলা রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির নেতৃত্বে প্রত্যেক ওয়ার্ডে পনের জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে। স্বেচ্ছাসেবকরা মাস্ক বিতরণের কাজ করছেন। জেলা প্রশাসন থেকে তাদের টিশার্ট ও মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে।

বিধিনিষেধ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, বিধিনিষেধ চলাকালীন দুটি পৌরসভায় গণপরিবহণ/বাস ইত্যাদি বন্ধ থাকবে। এছাড়াও যশোর সদর থেকে যশোর-ঝিকরগাছা-বেনাপোল, যশোর-অভনগর রুটে কোন লোকাল বাস/গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে না। তবে রোগী পরিবহনকারী/অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি পণ্য বহনকারী ট্রাক এবং জরুরি সেবা দানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না। সকল প্রকার হাইওয়ে রোডে আন্তঃজেলা গণপরিবহন সরকার কর্তৃক আরোপিত চলমান স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনপূর্বক চলাচল করতে পারবে।
এছাড়া কাঁচাবাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় (মুদিখানা) পণ্যের দোকান, ওষুধের দোকান ব্যতীত সকল ধরণের দোকানপাট, শপিংমল, বিপণিবিতানসমূহ বন্ধ থাকবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি পরিষেবা যেমন-কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, স্থলবন্দরসমূহের কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি) গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাকসেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

খাবারের দোকান ও হোটেল রেস্তোরাঁ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে খোলা থাকবে। তবে খাবারের দোকান ও হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে কেবল সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, সবাইকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী সকলকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। এছাড়া মোটরসাইকেলে চালক ব্যতীত অন্য কোন আরোহী যাতায়াত করতে পারবে না। রিকশায় শুধু একজন এবং সকল ধরণের ইজিবাইক ও অটোরিকশায় সর্বোচ্চ দুজন যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করা যাবে।

শিল্প-কলকারখানাসমূহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। শ্রমিকদের স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। সকল পর্যটনস্থল, পার্ক, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

জনসমাবেশ হয় এমন ধরণের সামাজিক (বিবাহ, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জমায়েত বন্ধ থাকবে।

স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুম্মার নামাজসহ প্রতি ওয়াক্ত নামাজে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন। ঘর থেকে ওজু করে সুন্নত নামাজ পড়ে মসজিদে আসবেন। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সমসংখ্যক ব্যক্তি উপাসনা করতে পারবে।

সকল জরুরি নির্মাণ কাজ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে চলমান থাকবে এবং এ সংক্রান্ত পণ্য পরিবহন বিধিনিষেধের আওতাবহির্ভূত হবে।

মন্তব্য
Loading...