যশোরে সাবেক স্ত্রীকে খুন-জখমের হুমকি

0 ১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরে সাবেক স্ত্রীকে খুন-জখমের হুমকির অভিযোগে ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশাসহ দুই বোনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাঘারপাড়ার আজমপুর গ্রামের মৃত আলী আহমেদের ছেলে যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের জনৈক আব্দুর রশিদের বাড়ির ভাড়াটিয়া শাহজাদুল হাসান পিকুল বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুদ্দীন হোসাইন অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলো শহরের পুরাতনকসবা কাজীপাড়ার এমএ মান্নানের মেয়ে ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা ও শিরিন সুলতানা সুমি।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, আসামি ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা তার স্ত্রী ছিলেন। তার সাথে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা একাধিক পুরুষের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। সংসারের টাকাসহ গচ্ছিত টাকা আত্মসাৎ করে তার স্ত্রী পরপুরুষদের পেছনে খরচ করতেন। স্ত্রী দুশ্চরিত্র হওয়ায় তিনি সংশোধন করার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়েছেন। এক পর্যায়ে ২০১৮ সালে তাকে তালাকের নোটিশও দেন। এই নোটিশ পেয়ে তার স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা শরিয়ত মোতাবেক চলাফেরা করবেন মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করেন। ফলে তিনি নোটিশ প্রত্যাহার করে নেন। এরপর থেকে তারা সংসার করতে থাকেন। কিন্তু তার স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা ফের একাধিক পরপুরুষের সাথে উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা শুরু করলে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। এতে ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং বোন শিরিন সুলতানা সুমির কুপরামর্শে অর্থ আত্মসাৎ করার জন্য ফন্দি আঁটতে থাকেন। স্ত্রীর কাছে তার ৫ লাখ টাকা গচ্ছিত ছিল। গত ১ মে বিকেলে স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা বোন শিরিন সুলতানা সুমির সহায়তায় তার ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বাসা থেকে গচ্ছিত সেই ৫ লাখ টাকা নিয়ে যান। তার অনুপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন ২ মে সকালে পুরাতনকসবা কাজীপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে যান স্ত্রীকে আনতে। কিন্তু স্ত্রী তার সাথে সংসার অস্বীকৃতি ও ৫ লাখ টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। এ কারণে বাধ্য হয়ে গত ২ জুন তিনি ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা তালাক প্রদান করেন। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা দুজন প্রেমিককে সাথে নিয়ে গত ৪ জুন সকালে তার ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বাসাতে আসেন। এ সময় ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা তার ঘরের সকল আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়াসহ তাকে খুন করে লাশ গুমেরও হুমকি দেন। ফলে তিনি তালাক দেয়া স্ত্রীর কথিত প্রেমিকদের ভয়ে বাঘারপাড়ার আজমপুর গ্রামের বাড়িতে চলে যান। বিষয়টি মীমাংসা করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি আাদালতে এ মামলা করেছেন।

মন্তব্য
Loading...