যশোরে রান্নার গ্যাসে ক্রেতার পকেট কাটা

0 ১২২

জিল্লুর রহমান গালিব

যশোরের বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না রান্নার গ্যাস। গ্যাস ক্রয়ের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে জনসাধারণের। ১২ কেজির প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসে একশ টাকা বেশি ব্যয় হচ্ছে ভোক্তাদের। প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম রাখা হচ্ছে ৯০০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত। এমনকি অনেক দোকানে দেখা দিয়েছে গ্যাসের স্বল্পতা। এতে করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে।

শহরের কয়েকজন দোকানি, ক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, গ্যাস নিয়ে তারা আছে বড় ঝামেলায়। ক্রেতা, ভোক্তারা মূল্য নিয়ে বিপাকে। দোকানিরা বিভিন্ন জনের কথার জবাব দিতে দিতে ক্লান্ত প্রায়। তবে দোকানিরা জানান, তারা যেমন দামে ক্রয় করছেন তেমন দামেই বিক্রি করছেন। দাম বৃদ্ধিতে তাদের কোনো হাত নেই।

আব্দুর রহিম নামে এক ক্রেতা বলেন, শহরের অধিকাংশ দোকানে ঘুরেছি গ্যাস কেনার জন্য। প্রতি দোকানেই ৯৫০ থেকে হাজার টাকা করে সিলিন্ডার প্রতি দাম চাওয়া হয়েছে। তারপরও অনেক দোকানে গিয়ে গ্যাস না পেয়ে ফেরত আসতে হয়েছে। পরে শহরের বাইরে থেকে একটি দোকান থেকে ৯০০ টাকা দিয়ে গ্যাস কিনতে হয়েছে। শুনেছি সরকার গ্যাসের দাম ৮৪২ টাকা করেছে তবুও কোনো দোকানে ৯০০ টাকার নিচে গ্যাস পায়নি।

সাব্বির হোসেন নামের একজন ক্রেতা জানান, অতিরিক্ত দামে গ্যাস কেনার চেয়ে কাঠ দিয়ে চুলা জ¦ালানো সাশ্রয়ী। তবে আমরা শহরের ভাড়া বাড়িতে থাকি। অনিচ্ছা সত্তেও অতিরিক্ত দামে কিনতে হচ্ছে গ্যাস। প্রতি মাসেই প্রায় এক সিলিন্ডার গ্যাস লাগে। আর প্রতিমাসেই এই অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে?

জেলা গ্যাস ব্যবসায়ী মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও শহরের বকুলতলা এলাকার মামুন এন্টারপ্রাইজ এন্ড চুলা ঘরের মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাদের কেনা দাম থেকে সামান্য লাভ রেখেই গ্যাস বিক্রি করি। কিন্তু আমরা কোম্পানির কাছ থেকে কিনছি ৮৮০ থেকে ৯১০ টাকা করে, এখানে কিভাবে ৮৪২ টাকায় বিক্রি করবো? আমরা যে দামে কিনছি সেভাবেই বিক্রি করছি। কোম্পানি দাম কম নিলে আমরা অবশ্যই দাম কম নিবো।
এছাড়া তিনি আরো বলেন, যশোরে প্রতি মাসে বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাস মিলে প্রায় ৫০ হাজার সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হয়। এতে যদি ১০০ টাকা করে বেশি নেওয়া হয় তাহলে অবশ্যই বড় একটি অঙ্কের বিষয়। এনিয়ে আমার পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

সরকারি মূল্য অনুযায়ী বেসরকারি খাতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের এলপিজি মূসকসহ ৯০৬ টাকা থেকে কমিয়ে ৮৪২ টাকা করা হয়েছে। এটি সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, যা ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশে ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য দ্বিতীয়বারের মতো সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

আর উৎপাদন পর্যায়ে ব্যয় পরিবর্তন না হওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির এলপিজির দাম পরিবর্তন করা হয়নি। সরকারি সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম আগের ৫৯১ টাকাই থাকছে। গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির নতুন দাম প্রতি লিটার ৪১ টাকা ৭৪ পয়সা। আগে এটি ছিল ৪৪ টাকা ৭০ পয়সা।

গত ৩১ মে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন দাম ঘোষণা করে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি। গত ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণ করেছিল এই সংস্থা। সে সময় বলা হয়েছিল, বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হবে। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল একদফা দাম সমন্বয় করা হয়।

মন্তব্য
Loading...