যশোর-নওয়াপাড়া পৌর এলাকায় ৭ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু

গণপরিবহণ-দোকানপাট-শপিংমল বন্ধ, স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নে মাঠে প্রশাসন

0 ৪৩

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

যশোর জেলায় করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই করোনার বিস্তার রোধকল্পে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাতে কঠোর অবস্থান নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে যশোর সদর উপজেলার যশোর পৌরসভা এবং অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভায় সার্বিক কার্যাবলি/চলাচলে আজ মধ্যরাত থেকে সাত দিনের (৯ জুন থেকে ১৬ জুন) জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুন) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিধিনিষেধ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, বিধিনিষেধ চলাকালীন দুটি পৌরসভায় গণপরিবহণ/বাস ইত্যাদি বন্ধ থাকবে। এছাড়াও যশোর সদর থেকে যশোর-ঝিকরগাছা-বেনাপোল, যশোর-অভনগর রুটে কোন লোকাল বাস/গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে না। তবে রোগী পরিবহনকারী/অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি পণ্য বহনকারী ট্রাক এবং জরুরি সেবা দানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না। সকল প্রকার হাইওয়ে রোডে আন্তঃজেলা গণপরিবহন সরকার কর্তৃক আরোপিত চলমান স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনপূর্বক চলাচল করতে পারবে।

এছাড়া কাঁচাবাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় (মুদিখানা) পণ্যের দোকান, ওষুধের দোকান ব্যতীত সকল ধরণের দোকানপাট, শপিংমল, বিপণিবিতানসমূহ বন্ধ থাকবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি পরিষেবা যেমন-কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, স্থলবন্দরসমূহের কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি) গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাকসেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

খাবারের দোকান ও হোটেল রেস্তোরাঁ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে খোলা থাকবে। তবে খাবারের দোকান ও হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে কেবল সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ (Takeway/online) করা যাবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, সবাইকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী সকলকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। এছাড়া মোটরসাইকেলে চালক ব্যতীত অন্য কোন আরোহী যাতায়াত করতে পারবে না। রিকশায় শুধু একজন এবং সকল ধরণের ইজিবাইক ও অটোরিকশায় সর্বোচ্চ দুজন যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করা যাবে।

শিল্প-কলকারখানাসমূহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। শ্রমিকদের স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

সকল পর্যটনস্থল, পার্ক, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। জনসমাবেশ হয় এমন ধরণের সামাজিক (বিবাহ, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জমায়েত বন্ধ থাকবে।

স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুম্মার নামাজসহ প্রতি ওয়াক্ত নামাজে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন। ঘর থেকে ওজু করে সুন্নত নামাজ পড়ে মসজিদে আসবেন। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সমসংখ্যক ব্যক্তি উপাসনা করতে পারবে।

সকল জরুরি নির্মাণ কাজ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে চলমান থাকবে এবং এ সংক্রান্ত পণ্য পরিবহন বিধিনিষেধের আওতাবহির্ভূত হবে।

মন্তব্য
Loading...