নড়াইলে চাঞ্চল্যকর ছালেহা পুড়িয়ে হত্যা : পুলিশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষকে হয়রানির অভিযোগ

0 ১৯

নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইলে চাঞ্চল্যকর ছালেহা বেগমকে (৭৪) পুড়িয়ে হত্যা মামলার বাদীপক্ষের লোকজনকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন মামলার বাদী মিনি বেগম। মামলার বাদী নিহতের কন্যা মিনি তার মায়ের প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে শনিবার দুপুরে নড়াইল প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, পুলিশ আসামিপক্ষের লোকজনকে না ধরে আমার দুই ভাবিসহ স্বজনদের ধরে শারীরিক নির্যাতন করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করেছে। আমার বৃদ্ধ মাকে প্রতিপক্ষ আসামিরা নির্মমভাবে পুড়িয়ে মারার পরও অজ্ঞাত কারণে পুলিশের লোকজন আমাদের পরিবারের সদস্যদের উপর নানাভাবে হয়রানি করে চলেছে। এ কারণে আমাদের পরিবারের লোকজন বাড়িছাড়া হয়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

মামলার বাদী মিনি বেগম লিখিত অভিযোগে জানান, মামলার সাক্ষী আমার ভাই ইরুপ খন্দকারের স্ত্রী নার্গিস বেগম (৪০) ও অপর ভাই দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত আরিফ খন্দকারের স্ত্রী কুলসুম বেগমকে (৪২) কালিয়া থানা পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাদের শারীরিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করেছে। শারীরিক নির্যাতনে নার্গিস অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, জেলার কালিয়া উপজেলার পিরোলী ইউনিয়নের জামরিলডাঙ্গা গ্রামের আরিফ খন্দকার ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ইরুপ খন্দকার বাদী হয়ে স্থানীয় ২৩ জনের নামে কালিয়া থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলার কিছু আসামি জামিনে বের হয়ে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়ে আসছিল। মামলা প্রত্যাহার না করায় চলতি বছরের ২২ মে রাত ১টার দিকে আসামিরা ইরুপ খন্দকারের বসতঘরের বারান্দার পাটকাঠির বেড়ায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকা পক্ষাঘাতগ্রস্ত ইরুপ খন্দকারের মা ছালেহা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জনের বিরুদ্ধে গত ২৫ মে কালিয়া থানায় মামলা দায়ের হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিয়া থানার ওসি (অপারেশন) আমানুল্লাহ বারী জানান, শুক্রবার দুুপুরে নিহত ছালেহা বেগমের পুত্রবধূ আরিফ খন্দকারের স্ত্রী কুলসুম বেগম ও বৃহস্পতিবার দুুপুরে অপর পুত্রবধূ ইরুপ খন্দকারের স্ত্রী নার্গিস বেগম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ করেছেন। তাদেরকে কোন ধরনের শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি বলে তিনি জানান।

এদিকে বিবাদীপক্ষের ওহাব মোল্যার মেয়ে মিনা খাতুন বলেন, ছালেহা বেগম হত্যাকাণ্ডে তার বাবা, ভাই এবং তাদের বংশের ১১ জনকে আসামি করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলা দেওয়া হয়েছে। বাদীপক্ষের লোকজন নিজেরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন, যার সত্যতা আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছে।

মন্তব্য
Loading...