জীবননগরে বেহাল সড়কের উন্নয়নে উদাসীন কর্তৃপক্ষ

0 ৪৭

রমজান আলী, জীবননগর

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার জীবননগর-কালীগঞ্জ মহাসড়কের বাঁকা ব্রিকস ফিল্ড থেকে আন্দুলবাড়ীয়া বাজারগামী সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন কোন সংস্কার বা মেরামত কাজ না হওয়ায় রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে বেহাল অবস্থায় থাকলেও তা উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের কোন সাড়া নেই। বর্ষা মৌসুমে রাস্তার এসব খানাখন্দে কাদা-পানি জমে থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এ কারণে ব্যস্ততম সরু এ সড়কে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।

সরেজমিনে জানা যায়, জীবননগর পৌর এলাকার একটি অংশ ছাড়াও এ সড়ক দিয়ে বাঁকা ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। এছাড়াও রাস্তাটি নিরাপদ ও দূরত্ব কম হওয়ার কারণে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এবং এলাকার ব্যবসায়ীরা রাত-দিন চলাচল করে থাকেন। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০-৪০ হাজার লোকজনের যাতায়াত রয়েছে। এছাড়াও অহরহ সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি অসংখ্য কৃষিপণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল তো রয়েছেই। কিন্তু খানাখন্দে ভরা রাস্তাটিতে বর্তমানে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। বর্তমান সময়ে অত্যন্ত ব্যস্ততম জনবহুল সরু এ রাস্তাটির দু’ধার প্রশস্তকরণ ও দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরজমিনে বাঁকা ব্রিকস ফিল্ড থেকে আন্দুলবাড়ীয়া বাজার পর্যন্ত দেখা যায় যে, রাস্তার অধিকাংশ স্থানের পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ রাস্তায় চলাচলকারী ব্যাটারি চালিত পাখিভ্যান, অটো, সিএনজি, ইজিবাইকের চাকা গর্তে পড়ে উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন চালক ও যাত্রীরা।

মিনাজপুর গ্রামের ইজিবাইক চালক জাকির হোসেন বলেন, রাস্তাটি একদিকে সরু, অন্যদিকে ভেঙে-চুরে খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় এ রাস্তায় দ্রুত চলাচল করা জীবনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকারণে এ রাস্তায় চলাচল করতে অনেক সময়ও ব্যয় হয়। এ রাস্তায় নিয়মিত চলাচল করা যানবাহন ঘন ঘন খারাপ হওয়ার ফলে মেরামতও ব্যয়ও বেড়ে যায়। রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত কষ্ট-দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।

জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা বলেন, রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কারণে চলাচল করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। জরুরি রোগী সাধারণকে হাসপাতালে নিতে নাজেহাল হতে হয়। বিশেষ করে সন্তানসম্ভবা মায়েদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় ভুক্তভোগী পরিবারকে। রাস্তাটি বর্তমানে সময়ের জন্য অত্যন্ত ব্যস্ততম রাস্তা। কিন্তু রাস্তাটি সরু এবং পিচ উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বার বার উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে এবিষয়ে কথা বলার পরও কোন সাড়া মেলেনি। রাস্তাটি শুধু সংস্কারের পাশাপাশি প্রশস্তকরণও জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধান বলেন, আমরা রাস্তাটির বেহাল দশার কথা বার বারই উপজেলা প্রকৌশলীর নিকট তুলে ধরেছি। প্রকল্প পাঠানো হয়েছে বলে তিনি আমাদেরকে জানিয়েছেন। রাস্তাটি সংস্কার ও প্রশস্তকরণ দুই-ই জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন বলেন, রাস্তাটির বেহাল দশার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

মন্তব্য
Loading...