তরুণদের মূল্যবোধের অবক্ষয়

0 ৩২

জাতীয় জীবনের সর্বত্র যখন চরম অবক্ষয় দেখা দিয়েছে তখন তরুণরা এ অবস্থা থেকে পিছিয়ে নেই। তরুণদের মাঝে মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। তাদের এ হারানো মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক আদর্শ থাকবে, কিন্তু সংঘাত থাকবে না। মুরুব্বিদের সম্মান করতে হবে। তাদের মূল্যবোধের অবক্ষয় এমন পর্যায়ে গেছে যে, তারা আর মুরুব্বিদের সম্মান করে না বলে বিদগ্ধজনেরা মন্তব্য করেছেন।

এ কথার পরতে পরতে জ্বলন্ত সত্য কথা প্রকাশ পেয়েছে। যারা মাটি ও মানুষের কাছের মানুষ, তরুণদের বাস্তব চিত্রটি তাদের অন্তর ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আজকাল পথে ঘাটে চলনে বলনে তরুণদের আচরণ এমনই দুর্বিনীত যে সব কিছুই তাদের কাছে ড্যাম কেয়ার। বয়োজ্যেষ্ঠদের তারা পরোয়া করেই না। এসব মুরুব্বিরা যে তাদের মাতাপিতার সমতুল্য সেটা তারা শেখেইনি বলে মনে হয়। আর এ জন্য তাদের মুরুব্বিরা তাদের হাতে অপমানিত ও নিগৃহীত হয়। কিন্তু এ কথা সত্য যে, যে তরুণের হাতে মুরুব্বিরা নিগৃহীত হন সেই তরুণ কোনোক্রমেই জীবনের সম্মানজনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না। তাকে হয় কোনো রাজনৈতিক দলের তল্পীবাহক চাটুকার হতে হয় নতুবা মাদকাসক্ত, ছিনতাইকারী হয়ে জীবনের অধোগতিতে চলে যায়। দৈব দুর্বিপাকে যদি কেউ ওপরে ওঠার সুযোগ পায় তার হাতে রাষ্ট্র ও জনগণ নিরাপদ থাকে না।

সমাজবিজ্ঞানীদের গবেষণায় এই অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার ধরা পড়েছে। তারা প্রযুক্তির ভালো দিকের পরিবর্তে খারাপটাই গ্রহণ করছে। এতে তাদের চরিত্রের ওপর প্রভাব পড়ছে। যার পরিণতি এই অবক্ষয়। হালে পথে-ঘাটে, বাসে, ট্রেনে, রিকশা, বাইকে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে এই শিক্ষার্থীরা ফেসবুক নিয়ে পড়ে থাকছে না। কিন্তু এমনভাবে ফেসবুক দেখাটা কি তাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়? সব কিছুরই তো একটা স্থান কাল আছে। এ অবস্থার জন্য যে শুধু তরুণরাই দায়ী তা নয়। এ জন্য অভিভাবকরা কোনো অংশে কম দায়ী নয়। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েদের হাতে এই অভিভাবকরা দামি মোবাইলটা তুলে দিচ্ছেন। তারা একবারও ভাবছেন না, তাদের সন্তানরা তো স্কুল-কলেজে যাচ্ছে, তাহলে মোবাইলটা সাথে নিয়ে যাবার প্রয়োজনটা কি? এই সরল অংকটা না বুঝে তার সন্তানটিকে যোগ্য বলে ধারণা করছেন। এই উল্টো বুঝটাই যত নষ্টের মূল। তরুণদের মূল্যবোধের যে অবক্ষয় ঘটেছে তা ফিরিয়ে আনতে হবে। সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের জন্য এ উপলব্ধি প্রণিধানযোগ্য।

মন্তব্য
Loading...