কৃষক বাঁচাতে সব ধরনের ব্যবস্থা চাই

৪৩

ইউনিয়নে ইউনিয়নে ধান ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন, প্রতিমণ ধানের দাম দেড় হাজার টাকা নির্ধারণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষককে আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য শস্য বীমা চালুসহ সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে বাম সংগঠন। বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো এক স্মারকলিপির মাধ্যমে সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই দাবি জানান। স্মারকলিপিতে বলা হয়, টানা অনাবৃষ্টি ও পোকার আক্রমণের কারণে কৃষকের ধান উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। কিন্তু বরাবরের মতো এবারও কৃষককে উৎপাদন থেকে কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে দারুণ ক্ষতির মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষক তথা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত চলতি বছরে ভুক্তভোগী কৃষককে ক্ষতিপূরণ, সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের জন্য ইউনিয়নে ইউনিয়নে কেন্দ্র স্থাপন, কৃষক খেত মজুরদের পূর্ণ রেশনিংয়ের আওতায় আনা এবং ফসলহানির ক্ষতি থেকে কৃষককে রক্ষার জন্য শস্য বীমা চালু করতে হবে।

এমন একটি দাবির কথা সরকারের দৃষ্টিতে আনার চেষ্টা করা হয়। দুর্যোগ-দুর্বিপাক কৃষকের সারা জীবনের সাথী। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু পানি করে কৃষক ফসল ফলায়। আর সেই ফসলে দেশের মানুষের ক্ষুধা মেটায়, জীবন বাঁচায়। কিন্তু যারা এই মহৎ কাজটি করে তাদের লাভ-ক্ষতি, বিপদ-আপদ, দুর্যোগ-দুর্বিপাক, সমস্যা-সংকট নিয়ে ভাববার একটি মানুষও নেই এ দেশটিতে। আর তাই তারা দেশের মানুষের মুখে ক্ষুধার অন্ন তুলে দিয়ে নিজেরা সারা বছর অভূক্ত থাকে। কৃষকের হাতে নগদ টাকা থাকে না তাই ফসল উৎপাদনের সময় তাকে মহাজনের কাছ থেকে ধার নিয়ে আবাদ করতে হয়। আশার ফসল যখন সোনা হয়ে কৃষকের হাতের মুঠোয় আসবো আসবো করে তখন একটা না একটা বিপর্যয় এসে সব আশা নিরাশায় পরিণত করে দিয়ে যায়। শুধু যে এবারই উৎপাদন খরচ বেশি হয়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা নয়, দু-এক বছর বাদে প্রায় সময় তারা এ ধরনের কোনো না কোনো ক্ষতির শিকার হয়। আর এমন অবস্থার মুখোমুখি হয়ে ফসলের দর পতন মেনে নিয়ে ক্ষতির বোঝা মাথায় নিয়ে বিক্রি করে মহাজনের দেনা শোধ করে ফসলের উঠতি মৌসুমেও তাকে ফসলহীন অবস্থায় থাকতে হয়।

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ঝঁকিপূর্ণ কাজে বীমা ব্যবস্থা আছে। কিন্তু জাতির মেরুদ- বলে হাস্যকর যে বিশেষণটি কৃষক শব্দটির আগে জোড়া হয় তাদের কাজ শত ঝুঁকিতে ভরা থাকলেও বীমা অথবা বীমার মতো কোনো ব্যস্থা নেই। তাদেরকে বীমার আওতায় আনা যায় কিনা তা ভেবে দেখা যেতে পারে। আমাদের মূল কথা হলো কৃষকদের আর এভাবে ক্ষতির মুখে ফেলে রাখা যাবে না। যে কোনো একটা পথ বের করতেই। আর এ জন্য উদ্যোগটা আগে নিতে হবে সরকারের পক্ষ থেকে।

মন্তব্য
Loading...