অবৈধ পথে আসা ভারতীয় নাগরিকের কোয়ারেন্টাইন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ

৫৮

বেনাপোল প্রতিনিধি

অবৈধপথে ভারতীয় এক নাগরিক সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর বেনাপোল পোর্ট থানার পোড়াবাড়ী নারায়ণপুর গ্রামে তার স্ত্রীর বাড়িতে ওঠেন। এমন খবরে তোলপাড় হয় এলাকায়। পরে পুলিশ ওই লোককে কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছে। যে বাড়িতে অবস্থান নিয়েছিল সেটি লকডাউন করে দিয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে ভারতীয় ওই নাগরিককে মামলার আওতায় না এনে কেন হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হলো।

জানা যায়, পোড়াবাড়ী নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসিনা বেগমের স্বামী বাদশা শেখ একজন ভারতীয় নাগরিক। তার পিতার নাম মৃত আনোয়ার শেখ। তিনি কর্ণাটকের বাসিন্দা এবং হোটেলের বাবুর্চি। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাদশা শেখ সীমান্ত পার হয়ে তার বাড়িতে আসেন।

পাসপোর্ট আছে কি না জানতে চাইলে হাসিনা বেগম জানান, তিনি বেনাপোল সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে পার হয়েছেন। এ সময় তার স্বামীর কাছে টাকা-পয়সা যা ছিল তারা নিয়ে নিয়েছেন। তার শরীরে কাঁটাতারের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। তিনি তাকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দিতে না চাইলে তার স্বামী বাদশা লস্কর আত্মহত্যা করবে বলে জানালে তাকে একটি রুমে রাখা হয়েছে। এদিকে পোড়াবাড়ী নারায়ণপুর এলাকায় ভারতীয় নাগরিকের আগমনের খবরে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

চায়ের দোকানির প্রতিবেশী মিনারুল ইসলাম মিন্নু জানান, ভারতে করোনাভাইরাসের প্রকোপে হয়তো তিনি সেখান থেকে ভয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছেন। তাছাড়া কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তাকে গ্রামে রাখা সম্ভব না। এ ছাড়া তিনি অসুস্থ বলে মনে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মেয়াদ আলী জানান, ভারত থেকে আগত একজন ভারতীয় নাগরিকের বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনেছি। সে নাকি ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে আমার গ্রামে এসেছে। আমি বিষয়টি বেনাপোল পোর্ট থানায় অবহিত করেছি।

বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই মাসুম বিল্লাহ বলেন, এলাকার লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়ে এসে চেকপোস্টের জুয়েল হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে হাসিনা বেগমের বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

মন্তব্য
Loading...