শার্শা কাছারি বাড়ির জমি উদ্ধারে পিপির মতামতের তিন মাস পার

0 ৮৯

শাড়াতলা প্রতিনিধি

যশোরের শার্শা উপজেলায় ৩৫ শতক সরকারি কাছারি বাড়ির জমি খাস খতিয়ানে ও দখলে আনয়ন করার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিভিল স্যুট শাখার ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখে ০৫.৪৪.৪১০০.০৩১.০৫.০০১.২০-২২০৫ নং স্মারকে বিজ্ঞ আদালতে এলএসটি/দেওয়ানি মামলার জন্য জিপি দপ্তরকে চিঠি প্রদান করেন। তারই প্রসঙ্গে সরকারি বিজ্ঞ আইন কৌশলী মতামত দিয়েছেন যশোর জেলা প্রশাসনকে। যা প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হতে চলেছে, কিন্তু এখনো জমি উদ্ধারে দখলকারীদের কোন নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। শার্শা থানার পিছনে প্রায় দেড়কোটি টাকা মূল্যের ঐতিহ্য সরকারি কাছারি-বাড়ির জমি দখলকারী হলো স্থানীয় ফজলুর রহমানের ছেলেরা জসিম উদ্দীন, কবির উদ্দীন, মনির উদ্দীন ও ঈমাম উদ্দীন। বাংলাদেশ সরকারের ১নং খাস খতিয়ান ভুক্ত ৭২নং শার্শা মৌজার এসএ ১২৫৫ দাগের ৩৫ শতক কাছারি বাড়ির জমি। এই জমির মধ্যে রয়েছে হাজার মানুষের চলাচলের সরকারের নির্মাণের রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের সরকারি ড্রেন।

বিগত ১৮.০২.২১ তারিখের ২৮নং স্মারকে-বিজ্ঞ সরকারি আইনজীবী জনাব বাহাউদ্দীনের স্বাক্ষরিত একপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, শার্শার স্থানীয় কিছু কতিপয় ব্যক্তি ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে খাস খতিয়ানভুক্ত কাছারি-বাড়ির জমি নিজ নামে রেকর্ড করেছে। তাই আইনের দৃষ্টিতে রাষ্ট্রীয় আইন ও প্রজাস্বত্ব আইনের ২০(এ) ধারামতে কাছারি বাড়ি, জলমহাল,হাট-বাজার, নদী শ্রেণির জমি কোন অবস্থাতেই ব্যক্তি মালিকানায় থাকার যোগ্য নয়। তাই সরকারের স্থানীয় প্রশাসন এই সব সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড লিপিবদ্ধ হলেও উল্লেখিত আইনের বিধানমতে মিস কেস রুজু করিয়া সরকারের নিজ দখলে আনয়ন করতে পারেন। আরো বলেন, ইত্যবৎসরে নালিশি জমিটি সার্ভেয়ার দিয়ে পরিদর্শন করিয়ে ঐ জমির উপর অবৈধভাবে (দখলদার) বসবাসকারীদের উপর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মিস কেস প্রস্তুত করে নোটিশ প্রদান সাপেক্ষে শুনানি শেষে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে পারেন। ও তারকাঁটার বেড়া দিয়ে এই ৩৫ শতক জমি সরকারের দখলে আনয়ন কওে প্রয়োজনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য সুপারিশমালা প্রস্তুত করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, সরকারি জমি উক্ত স্থানের কতিপয় ব্যক্তিগত ১৯৯৯ সালে স্বত্বের দাবিতে বাদী জসিমসহ অন্যরা ও বিবাদী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ডিসিসহ অন্যান্য, শার্শা সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দাখিল করে যার নং ৮৯/৯৯, যা এখনো চলমান। বিজ্ঞ শার্শা সহকারী জজ আদালত ০২/০৭/২০০১ তারিখে একটি আদেশ দেয় যা সরকার পক্ষে রায় আসে। এই আদেশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ মহামান্য হাইকোর্টে একটি সিভিল রিভিশন মামলা দাখিল করে যার নং ৮১/২০০২। মোকাদ্দমাটি ১৪/১১/২০১৮ তারিখে রায় হয় যা সরকারপক্ষে রায় আসে এবং শার্শা সহকারী জজ আদালতের দেং ৮৯/৯৯ নং মোকদ্দমায় ০২/০৭/২০০১ তারিখের আদেশ বহাল রাখেন এবং মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। তাই নতুন করে দেওয়ানি মামলা দায়ের করার প্রয়োজন নেই।

এদিকে বুরুজবাগান ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানান, দখলদাররা সরকারি নিয়মনীতি ভেঙে অবৈধভাবে পুরাতন কাছারি ঘর ভেঙে নিজেরা পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছে। তিনি আরো জানান, বুরুজবাগান ভূমি অফিসের রেকর্ড পত্র যাচাই করে দেখা গেছে, তাদের যে কাগজপত্র রয়েছে তা ভুয়া ও শার্শা উপজেলা ভূমি অফিসে পাওয়া যায়নি। এই জমি ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত।

এলাকাবাসির দাবি, জমি যেন দ্রুত সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হয়, এ জন্য জেলা প্রশাসক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার রাসনা শারমিন মিথিকে তার মুঠোফোনে ফোন দিলে রিসিভ হয়নি।

মন্তব্য
Loading...