বেনাপোলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভারত ফেরত জটিল রোগীরা

0 ২২

আনিছুর রহমান, বেনাপোল

এক বছর আগে করোনার কারণে প্রথম দফা লকডাউনের সময় থেকে ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্টযাত্রী যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। তবে বেশ কিছুদিন সব রকম ভিসা স্থগিত থাকার পর ভারত সরকার বাংলাদেশের জন্যে চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা, কূটনীতি, সাংবাদিকতাসহ পেশাভিত্তিক ভিসা সীমিত আকারে দেয়া শুরু করে। সেই মোতাবেক বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু লোক ভারতে যাতায়াত করছিল। সম্প্রতি দ্বিতীয় দফা লকডাউনের প্রেক্ষাপটে উল্লেখিত ভিসায় ভারতে গিয়ে যেসব বাংলাদেশি পাসপোর্টযাত্রী আটকা পড়েছেন তারা এখন ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনের বিশেষ অনুমতিপত্র নিয়ে ফিরে আসছেন। আসার পরই তাদেরকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। যাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে তাদের মধ্যে কিছু যাত্রী রয়েছেন যারা চিকিৎসা ভিসায় ভারতে চিকিৎসার জন্যেই গিয়েছিলেন। যদিও তাদের সংখ্যা খুব কম।

গত ২৭ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ফিরে এসেছেন তাদের মধ্যে প্রায় ৫শ যাত্রীকে বিভিন্ন হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদের অধিকাংশ চিকিৎসা ভিসার পাসপোর্টযাত্রী বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে আবার কিছু জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীও আছেন। এসব জটিল রোগীকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার পর তাদের দেখভালের জন্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রয়োজন। কিন্তু তা থাকা তো দূরের কথা, সাধারণ চিকিৎসকও নেই। সবচেয়ে বড় কথা হলো, ৫ শতাধিক যাত্রীকে বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকার বিভিন্ন হোটেলে রাখা হয়েছে। তারা দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিভিন্ন হোটেলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। এদের সংখ্যাই বেশি। কারণ তরা চিকিৎসার জন্যে ভারতে গিয়েছিলেন। তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা খুবই জরুরি।

আবার যখন ভারত থেকে পাসপোর্টযাত্রীরা ফিরে আসছেন এবং ইমিগ্রেশনের অভ্যন্তরে স্থানান্তরের অপেক্ষায় অবস্থান করছেন তখন তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষার দায়িত্বে যে চিকিৎসক নিয়োজিত থাকছেন তারা আসছেন ১২ কিলোমিটার দূরের শার্শার নাভারণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে। এদের মধ্যে রয়েছেন ডাক্তার ইউসুফ আলী, ডাক্তার সোহাগ আলী, ডাক্তার আজিম উদ্দিন প্রমুখ।

বেনাপোলের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ছড়িয়ে থাকা কোয়ারেন্টাইনের পাসপোর্টযাত্রীদের একজন বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য (৬৫)। পাসপোর্ট নং বিআর ০৯৮৭০৮৪। আছেন সীমান্ত ঘেঁষা নিশাধ হোটেলে। তিনি বলেন, আমার বয়স পয়ষট্টি বছর। আমার চোখ অপারেশন করে এসেছি। অবস্থা মোটেও ভাল না। ডায়াবেটিসের সমস্যাও রয়েছে। এরকম জটিল অবস্থায় এই বৃদ্ধ বয়সে এখানে কোয়ারেন্টাইনে থাকায় আমি আরো বিপদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। একই হোটেলে অবস্থানরত আরো একজন যাত্রী আমির হামজা (২৮)। পাসপোর্ট নং ইবি-০৯০২৭৪৭। বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। লোকটি অন্ধ-প্রতিবন্ধী। তিনি বলেন, আমি অচল মানুষ। এখানে থাকায় এই পবিত্র রমজানে সিয়াম সাধনা করতে পারছি না। সেই সাথে নামাজ আদায়ও স্বাভাবিকভাবে করার সুযোগ পাচ্ছি না। খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারেও বেশ কষ্ট পেতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছি। একই হোটেলে থাকা নারায়ণগঞ্জের রুহুল আমিন (৩৮)। পাসপোর্ট নং এ-০০২৪২৯১৭)। তিনি বলেন, আমার ৪ বছরের কন্যার রক্তের প্লাটিলেট কমে গেছে। একজন স্বাভাবিক মানুষের রক্তের প্লাজমা থাকে দেড় লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ। আর আমার মেয়ের আছে মাত্র ৪ হাজার প্লাজমা। এরকম চরম দুরবস্থার মধ্যেই আমি এখানে মেয়েকে নিয়ে রয়েছি। যে কোন সময় বড় ধরনের বিপদে পড়ে যেতে পারি। এই মুহূর্তে দরকার আমার মেয়ের জন্যে উন্নত চিকিৎসার জায়গায় নিয়ে যাওয়া।

কোয়ারেন্টাইনে থাকা রোগীদের সম্পর্কে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার ইউসুফ আলী বলেন, যেসব জটিল রোগী কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তাদের অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনে উচ্চতর চিকিৎসা প্রাপ্তির সুযোগ আছে, এরকম হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

মন্তব্য
Loading...