মানুষের জন্য ছুটছে শালিখা উপজেলা ব্লাড ব্যাংক

0 ১৫

শালিখা প্রতিনিধি

রক্তের মধ্য দিয়ে যে জাতির জন্ম সে জাতি কখনো রক্তদানে ভয় কনে না এই শ্লোগান নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন শালিখা উপজেলা ব্লাড ব্যাংকের এক দল তরুণ। ২২ থেকে ২৮ বছরের এ দলের তরুণরা সারাক্ষণ অপেক্ষায় থাকেন একটি আহ্বানের। ‘একজন মুমূর্ষূ রোগীকে বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন’ খবর পেলেই ছুটে যান তারা। রোগীর ঠিকানা নিয়ে পৌঁছে যান হাসপাতালে। রক্ত দিয়ে ফেরেন হাসিমুখে। মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার এ তরুণ দলের এটি যেন প্রতিদিনের রুটিনমাফিক কাজ। আরও খোলাসা করে বললে একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছায় রক্তদানে গড়ে তুলেছেন অনলাইনভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। রক্তদানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁরা ছুটে বেড়ান মানুষের জীবন বাঁচাতে। জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তাদের শরণাপন্ন হলেই ছুটে যান তারা। মানুষই তাদের কাছে বড় পরিচয়। এ রকম অনলাইনভিত্তিক একটি সংগঠন শালিখা উপজেলা ব্লাড ব্যাংক। তারা উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি করে ব্লাড ব্যাংকের শাখা সৃষ্টি করেছেন। শালিখা উপজেলা ব্লাড ব্যাংকের মূল অ্যাডমিনের সঙ্গে কথা হয় গত সোমবার।

শালিখা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে বসা আড্ডায় এই উদ্যমী তরুণের কথায় উঠে আসে তাঁদের পথচলার গল্প। শুরুতেই শালিখা উপজেলা ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও অ্যাডমিন মুন্সী হাবিবুল্লাহ (পাভেল মুন্সী) শোনান তাঁদের এক হওয়ার পটভূমি। তিনি ছিলেন মাগুরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্র। ঐ সময় বিভিন্ন রক্তদান কারি তরুণদের সাথে পরিচয় ঘটে। এ সময় সে মনে মনে স্বপ্ন দেখে একটি ব্লাড ব্যাংক গঠনের। এরপর ফেসবুকে কথাবার্তা ও বিভিন্ন সময় রক্ত দিতে গিয়ে পরিচয় ঘটা তরুণদের নিয়ে পথচলা। ২০১৫ সালে ২৬ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে সফলতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে সংগঠনটি। মাগুরা জেলায় রক্তদাতা সংগঠনগুলোর মধ্যে তৃতীয় স্থানে শালিখা উপজেলা ব্লাড ব্যাংকের অবস্থান। ১২ জন অ্যাডমিন দিয়ে শুরু হলেও বর্তমান অ্যাডমিনের সংখ্যা ২২ জন। তিনি আরও বলেন, তিনি নিজেই ২৩ বার রক্তদান করেছেন। প্রত্যেক অ্যাডমিন কমপক্ষে ৬ বার করে রক্ত দিয়েছেন। সংঘটনের বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। তাঁরা গড়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০-১৫ ব্যাগ রক্তদান করেন। সদস্য হিসাবে সংগঠনে ডাক্তারসহ রয়েছে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। অ্যাডমিন মুন্সী হাবিবুল্লাহ ব্লাড ব্যাংক স¤পর্কে বলেন, রক্ত দেওয়ার পর রোগীর স্বজনদের মুখে যে হাসি দেখি তাতে মন ভরে যায়। আমরা মানবসেবায় কাজ করি, অর্থের নেশায় নয়। সংগঠনটির ফেসবুক পেজে গেলে দেখা যায়, রোগীর অবস্থান ও স্বজনের মুঠোফোন নম্বর।

তালখড়ি ব্লাড ব্যাংকের ফেসবুক পেজের একটি পোস্ট থকে নম্বর নিয়ে কথা হয় এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে। তিনি কুষ্টিয়ার বাসিন্দা, নাম রবিউল ইসলাম। মুঠোফোনে তিনি বলেন, আমার ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত সাড়ে তিন বছরের শিশুর জন্য এবি পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন ছিল। তাঁরা এসে রক্ত দিয়ে গেছেন। একইভাবে শ্রীপুর বাসিন্দা মোহাম্মদ নাসিম মুঠোফোনে বলেন, আমার বোনের জন্য রক্তের প্রয়োজনে ছিল শালিখা উপজেলা ব্লাড ব্যাংক তার ব্যবস্থা করেছেন। রক্ত দেওয়া ছাড়াও বছরের বিভিন্ন সময়ে সংগঠনের সদস্যরা শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদানে উদ্বুদ্ধকরণসহ নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালান। মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে ঝামেলাও পড়তে হয় তাঁদের। ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুন্সী হাবিবুল্লাহ বলেন, একবার আমাদের দুজন সদস্যকে রক্ত লাগবে বলে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়েছিল। আরেকবার সভা করার সময় পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। তবে এসব নিয়ে তাঁদের কোনো মাথাব্যথা নেই। সবার এক কথা, এসব বাধা পেরিয়েই এগোতে হবে আমাদের। থামার জন্য তো শুরু করিনি।

মন্তব্য
Loading...