যশোরে দলীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় ছাত্রদল নেতা জখম

0 ২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরে ছাত্রদলের মধ্যে থাকা সন্ত্রাসীদের আটকের দাবি জানিয়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাব যশোরের সামনে এক মানববন্ধন থেকে এই দাবি করা হয়। এমএম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব নূর ইসলাম রুবেলকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

এদিকে জখমের ঘটনায় রুবেলের ভাই নজরুল ইসলাম কোতয়ালি থানায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, ছাত্রদলের মধ্যে সন্ত্রাসীরা ঢুকে পড়েছে। ওইসব সন্ত্রাসীরা ছাত্রদলকে কলুষিত করছে। ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে তারা নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের উপর সন্ত্রাসী হামলা করছে। এদেরকে চিহ্নিত করে সংগঠন থেকে বিতাড়িত করতে হবে। তা না হলে প্রকৃত ছাত্ররা ছাত্রদল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে। ছাত্রদল সাধারণ ছাত্রদের সংগঠন। যশোরের সাধারণ ছাত্রদের কাছে ছাত্রদলের গ্রহণ্যযোগ্যতা রয়েছে। কিন্তু যশোর জেলায় এই সংগঠনটি সন্ত্রাসীদের দখলে চলে যাচ্ছে। সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে তারা ভাবে না। যশোরে সংগঠন বাঁচাতে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ করতে হবে। দ্রুত ছাত্রদলের মধ্যে থাকা এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি শামসুজ্জামান রিন্টু, নাছির উদ্দিন, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সোহানুর রহমান শামীম, রবিউল ইসলাম, সহসম্পাদক সাউদাল আল রশিদ ড্যানি প্রমুখ।

এর আগে যশোর সরকারি এমএম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও শহরের ষষ্ঠিতলাপাড়ার নওশের আলীর ছেলে নূর ইসলাম রুবেলের উপর হামলা করে সন্ত্রাসীরা। বুধবার রাত পৌনে নয়টার দিকে যশোর জিলা স্কুল মাঠে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত রুবেল জানায়, একমাস আগে লালদিঘির পাড়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনের সময় মানববন্ধনে দাঁড়ানো নিয়ে সিটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানের সাথে তার ধাক্কাধাক্কি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতা পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু সমাধান হয়নি। যার জেরে মিজানের নেতৃত্বে বুধবার রাতে তার উপর বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে বেজপাড়া আনছার ক্যাম্প এলাকার ররিউলের ছেলে স্বাক্ষরসহ চার পাঁচজন রামদা দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা করে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তন্ময় বিশ্বাস জানান, রুবেলের মাথা, ঠোঁট, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে। হাসপাতালে আনার পর বুধবার রাতেই তার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়।

এদিকে জখমের ঘটনায় রুবেলের ভাই নজরুল ইসলাম কোতয়ালি থানায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতাদের আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিরা হলেন- জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং শহরের আরএন রোড এলাকার আতাউল্লাহর ছেলে রাজিদুল ইসলাম সাগর (৩৪), জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং রেলগেট চোরামারা দিঘিরপাড় এলাকার মৃত আইনুল হকের ছেলে আনছারুল হক রানা (৫০), বারান্দী মোল্লাপাড়া এলাকার সিরাজ মিস্ত্রির ছেলে মিজান চৌধুরী (২৮) ও হাবিব (২৩), শংকরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশের বাবলু শেখের ছেলে জয় (২৮), মোল্লাপাড়ার আশরাফ ড্রাইভারের ছেলে জুবায়ের হোসেন (২৫), শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার মৃত আব্দুল গণির ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ (৪০), রেলগেট শ্রীদুর্গা হোটের পেছনের মৃত মঞ্জু সরদারের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৪০), যশোর জিলা স্কুলের মসজিদের পেছনের আব্দুল হামিদের ছেলে আনোয়ার পারভেজ (৪০),

মন্তব্য
Loading...