কর্মরতদের পরামর্শে বাড়িতে যান সেই ‘পলাতক’ রোগীরা

0 ৩৬

জিল্লুর রহমান গালিব

যশোর সদর হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড থেকে ‘পালিয়ে’ যাওয়া রোগীরা স্বেচ্ছায় যাননি। তাদেরকে ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবায় দায়িত্বরতরা হাসপাতালে থাকতে নিরুৎসাহিত করেন। বরং রোগীদের বাড়িতে যেতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এমন কি তাদের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে দিয়েছেন হাসপাতালের ওয়ার্ডের কর্মচারীরা। আর ওয়ার্ড থেকে ভারত ফেরত করোনা রোগীদের পাসপোর্টও দিয়ে দেয়া হয়। রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এ প্রসঙ্গে যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান জানান, বিষয়গুলো আমরাও শুনেছি। হাসপাতালের সুপার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে পেলে এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। প্রয়োজনবোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

রোগীদের বাড়ি চলে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক সদর হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিমাদ্রী শেখর সরকার বলেন, ঘটনার মূল কারণ কি তা খুঁজে বের করার কাজ করছি। পাঁচ কর্মদিবস পর অফিসিয়ালিভাবে সবকিছু জানানো হবে।

যশোর সদর হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড থেকে ২২-২৩ এপ্রিলের মধ্যে সাতজন ভারতফেরতসহ দশজন করোনা রোগী ‘পালিয়ে’ যান। ২৪ এপ্রিল রাতে বিষয়টি জানাজানি হয় ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ফলে ২৫ এপ্রিল এ ঘটনা নিয়ে সারাদেশে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয়। পরে পুলিশ প্রশাসন এদিন গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে রোগীদের হেফাজতে নিয়ে ফের হাসপাতালে ভর্তি করে।

বর্তমানে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সোহেল সরদার বলেন, আমাকে একজন নার্স বলেন, শরীরের কি অবস্থা। আমি বললাম ভালো। তিনি বললেন, তাহলে বাড়ি চলে যান। বাড়ি গিয়ে বিশ্রাম করবেন। এখানে থাকলে আরো অসুস্থ হয়ে পড়বেন। তারপর আমি বাড়িতে যাই। এসময় হাসপাতালের লোকেরা আমাকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে দেন। তাতে করেই বাড়িতে গিয়েছি। তারপর তো আবার আমাকে ধরে আনা হলো।

আরেক রোগী মনিমালা দত্ত বলেন, আমার শারীরিক অবস্থা ভালো হওয়ায় নার্সেরা আমাকে বাড়ি যেতে বলেন। এখানে না থেকে বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা নেন ও বিশ্রাম করেন তাহলে দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবেন। তখন তারা ছাড়পত্র দেননি, জমা দেওয়া পাসপোর্ট নিয়ে চলে যেতে বলেন। সে কারণেই বাড়িতে যাওয়া। তবে তাদের কথায় বাড়িতে গিয়ে ভুল করেছি। না গেলে এতো ঝামেলা সৃষ্টি হতো না।

ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ফাতেমার স্বামী রবিউল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রী হাসপাতালে গিয়েছিল চিকিৎসকের সাথে সাক্ষাৎ করতে। এ সময় তাকে ভর্তি হওয়ায় জন্য বলা হয়। পরে হাসপাতালের তৃতীয়তলায় করোনা ওয়ার্ডে গেলে তাকে বলা হয় আপনি তো সুস্থ আছেন, তাহলে হাসপাতালে ভর্তি হবেন কেন? তার চেয়ে বাড়ি থেকে চিকিৎসা নেন। ভালোভাবে থাকতে পারবেন। এছাড়া দ্রুত সুস্থ হতে পারবেন।

এদিকে হাসপাতালে দায়িত্বরতদের কথায় বাড়িতে চলে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন রোগীর স্বজনরাও। সোহেল সরদারের বোন বলেন, প্রশাসন ও এলাকাবাসীর ন্যাক্কারজনক কথা শুনতে হচ্ছে সবসময়ই। ঘর থেকে উঠানে গেলেও কথা শোনাতে বাদ রাখছে না কেউই। যা আমাদের জন্য অপমানজনক। আমরা যথেষ্ট সাবধানে ও একা থাকার চেষ্টা করছি। তারপরও সবাই বিভিন্ন ধরনের কথা বলে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলীপ কুমার রায় বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দিলে জানা যাবে কি কারণে তারা বাড়িতে চলে গিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, বাড়ি চলে যাওয়া রোগীদের ফিরিয়ে এনে ভর্তি করা হয়েছে। আর কোনো রোগী যেন হাসপাতাল থেকে না যেতে পারে তার জন্য ওয়ার্ডের গেটে পুলিশ প্রহরা রাখা হয়েছে।

মন্তব্য
Loading...