বেনাপোলে পাসপোর্ট যাত্রীদের দেখভালে নেই চিকিৎসক

কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে বেসামাল প্রশাসন

0 ২৬

বেনাপোল প্রতিনিধি

ভারতে করোনা ভয়াবহ রূপ নেয়ায় ভয়ঙ্কর বিপদের আশঙ্কায় বাংলাদেশ সরকার গত ২৫ এপ্রিল ভারতের সাথে স্থলপথে উভয় দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত বন্ধ ঘোষণা করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার সারাদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে উভয় দেশের মধ্যে কোন যাত্রী যাতায়াত হয়নি। তবে উভয় দেশে অবস্থিত স্ব-স্ব হাইকমিশনের বিশেষ অনুমতিপত্র নিয়ে মঙ্গলবার থেকে উভয় দেশের মধ্যে এই বন্দর দিয়ে যাত্রী যাতায়াত চলছে। তবে ভারত থেকে আগত যাত্রীদের নিজ খরচে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু যেসব জায়গায় এই তিন দিনে আগত পাসপোর্ট যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে তাদের স্বাস্থ্যবিধি মানা কিংবা শরীরের অবস্থা বুঝে সুচিকিৎসা প্রদানের তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। তাদের দেখভালের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়নি।

এদিকে গত মঙ্গল ও বুধবার দুদিনে ভারত থেকে পাসপোর্ট যাত্রী ফিরে এসেছেন ৪৪৮ জন। আর ভারতীয় নাগরিক এই দুদিনে ফিরে গেছেন ৫০ জন। তবে এই দু’দিনে যে যাত্রীরা ফিরে এসেছেন, তাদের মধ্যে মঙ্গলবার ২ জন ও বুধবার ১ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। আর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাসপোর্ট যাত্রী ফেরত এসেছেন প্রায় ২ শতাধিক। আর ফেরত গেছেন ৫৫ জনের মতো। তবে বৃহস্পতিবার যারা প্রত্যাবর্তন করেছেন তাদের মধ্যে তিনজনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। তারা হলেন, গোপালগঞ্জ জেলার একই পরিবারের বিপ্লব রায়,পঞ্চনন রায় ও লাবনী রায়।

এদিকে গত তিনদিনে ভারত ফেরত পাসপোর্ট যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেনাপোলে বিভিন্ন হোটেল, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর কাজে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন শার্শার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসনা শারমীন মিথি। একইসাথে তৎপর রয়েছেন নাভারণ সার্কেলে সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান। সেই সাথে বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান, ইমিগ্রেশন ওসি আহসান হাবিব ও মুজিবুর রহমান, বেনাপোল পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রাশিদা খাতুনসহ ইমিগ্রেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীবৃন্দ ভোর থেকে রাত ১০টা ১১টা পর্যন্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

তবে এই বন্দর দিয়ে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে স্বাভাবিক পন্থায় পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত বন্ধ থাকলেও উভয় দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য স্বাভাবিক রয়েছে। দিনে কমপক্ষে কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে দুই শতাধিক ভারতীয় ট্রাক ঢুকছে। আর বাংলাদেশ থেকে অর্ধশতাধিক রপ্তানি পণ্যবাহী যান ভারতে ঢুকছে। কিন্তু গত ২৪ এপ্রিল নাগাদ ভারতে তীব্র অক্সিজেন সংকটের প্রেক্ষাপটে সেদেশের সরকার অক্সিজেন রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় এই বন্দর দিয়ে এ কয়দিন আর কোন অক্সিজেনবাহী যান ঢোকেনি। এদিকে বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হচ্ছে, যেসব ভারতীয় পণ্যবাহী যান বাংলাদেশে প্রবেশ করছে তাদের চালক ও হেলপারদের যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধির আওতায় আনা হয়নি।

মন্তব্য
Loading...