কালীগঞ্জে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, অভিযুক্ত আটক

0 ২৭

কালীগঞ্জ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের একটি ক্লিনিক থেকে চুরি হওয়া নবজাতককে ১৫ ঘন্টা পর উদ্ধার করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে শহরের নিশ্চিন্তপুর দাসপাড়ার পিয়া খাতুন-জাহাঙ্গীর দম্পত্তির বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। চুরির সাথে জড়িত থাকায় পিয়া খাতুন ওরফে মিনারাকে আটক করেছে র‌্যাব। আটক পিয়া খাতুন ও জাহাঙ্গীর ওই এলাকায় রফিকুল ইসলামের ভাড়া বাড়িতে থাকেন। উদ্ধারের সময় ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শিবলী নোমানি উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ইফতারের সময় কালীগঞ্জ শহরের একটি ক্লিনিক থেকে নবজাতকটি চুরি হয়। শিশুটি কালীগঞ্জ পৌরসভাধীন বলিদাপাড়ার ইজিবাইক চালক মনিরুল ইসলামের। সোমবার সন্ধ্যায় বাচ্চাটি হারিয়ে যাওয়ার পর স্বজনরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সোমবার রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত একজনের নামে মালমা করেন। এরপর শিশুটি উদ্ধারে মাঠে নামে র‌্যাব ও পুলিশের পৃথক কয়েকটি টিম।

উদ্ধারের পর র‌্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামাল উদ্দিন জানান, ঘটনাটি জানার পর থেকেই চুরি হওয়া কন্যা শিশুটিকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় র‌্যাবের একাধিক টিম। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, উপজেলার নিশ্চিন্তপুর দাসপাড়ায় রয়েছে শিশুটি। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে পিয়া খাতুন-জাহাঙ্গীর দম্পত্তির বাড়ি থেকে নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। এ সময় পিয়া খাতুনকে আটক করা হয়। তবে স্বামী পলাতক থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

জিজ্ঞাসাবাদে পিয়া খাতুন জানায়, দীর্ঘদিন তাদের সন্তান হচ্ছিল না। তাই দুজন পরামর্শ করে শিশুটিকে চুরি করেছিল। তবে, আটক প্রিয়ার দাবি, আমি বাড়ির পাশে শিশুটি পড়ে পেয়েছি।

সোমবার সকালে পৌরসভার বলিদাপাড়ার ইজিবাইক চালক মনিরুলের স্ত্রী সাবানা বেগমের প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে কালীগঞ্জ শহরের সেবা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে সিজারের মাধ্যমে কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। এরপর ক্লিনিকের ২০৩নং কেবিনে রাখা হয়। কন্যা ও তার মা সুস্থ ছিল। বিকেলে এক অপরিচিত মহিলা এসে শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করে এবং বিভিন্ন ধরনের গল্প করতে থাকে। এরপর মহিলাটি ক্লিনিকের রিসিভশনে বসেছিল, তবে মহিলাটা কোন রোগীর আত্মীয় হবে ভেবে কেউ তাকে সন্দেহ করেনি।
সন্ধ্যায় শিশুটি তার বোন মরিয়মের কোলে ছিল এবং তার মায়ের সাথে স্বজনরা যখন ইফতার নিয়ে ব্যস্ত ছিল। ওই সময় মরিয়মের কাছ থেকে কোলে নেয় অভিযুক্ত পিয়া। পরে মরিয়ম বাথরুমে গেলে সুযোগ পেয়ে ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

মন্তব্য
Loading...