যশোর সদর হাসপাতাল ১০ করোনা রোগী ‘পলাতক’ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড়

চারজনকে ফের ফের ভর্তি, অন্যদের প্রক্রিয়াধীন

0 ৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোর সদর হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান ভারতফেরতসহ দশ করোনা রোগী। রোববার বিষয়টি জানাজানির পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সোমবার বিষয়টি টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয়। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় সেই দশজনকে ফের হাসপাতালে ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চারজনকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীদের ‘অবহেলা’য় তারা পালিয়ে গেছে।

রাত আটটার দিকে সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়া রোগীদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ফেরত আনা হয়েছে। তারা এখন করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। বাকিদেরও রাতের ভিতরেই হাসপাতালে এনে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ব্রাদার তারক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ভারতফেরত কিছু রোগী ভর্তি করা হয়। এরপর রোববারও রোগী আসেন। এসকল করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের সবাইকে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় করোনা ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।

হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়া ১০ জন হলেন, যশোর সদরের পাঁচবাড়িয়া এলাকার রবিউল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা (১৯), একই এলাকার একরামুল কবিরের স্ত্রী রুমা (৩০), সাতক্ষীরার আশাশুনি এলাকার প্রতাপপাড়া এলাকার জালাল হোসেন ছেলে মিলন হোসন (৩২), সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের মনোতোষ সরদারের স্ত্রী শেফালী রাণী (৪০), যশোর সদরের পশ্চিম বাড়ান্দিপাড়া এলাকার বিশ^নাথ দত্তের স্ত্রী মনিমাল দত্ত (৪৯), রাজবাড়ি সদরের রামকান্তপুর এলাকার গোলাম রব্বানীর মেয়ে নাসিমা আক্তার (৫০), খুলনা পাইকগাছার দামরাইল এলাকার আহমদ সানার ছেলে আমিরুল সানা (৫২), যশোর সদরের ওয়াপদা গ্যারেজ মোড় এলাকা মৃত ভদ্র বিশ^াসের ছেলে প্রদীপ বিশ^াস (৩৭), খুলনা সদরের কলিম কৃষ্ণের ছেলে বিবেকানন্দ (৫২), খুলনা রুপসা এলাকার শের আলীর ছেলে সোহেল সরদার (১৭)। এদের মধ্যে মনিমালা, মিলন হোসেন, শেফালি রানী, আমিরুল সানা, সোহেল সরদার, বিবেকানন্দ সরকার ও নাসিমা আক্তার ভারতফেরত।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন ও বক্ষব্যাধির কয়েকজন চিকিৎসকরা বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী যদি কোনো পরিবারে থাকে তার মাধ্যমে প্রথমে তার পরিবার এবং আশপাশের লোকজনও আক্রান্ত হতে পারেন। করোনার ভারতীয় ধরন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে পালিয়ে যাওয়া রোগীরা যদি ভারতীয় ধরনের বাহক হন তাহলে তা আমাদের দেশে ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলীপ কুমার রায় বলেন, হাসপাতাল থেকে রোগী পালিয়েছে এটা আমরা জানতে পেরেছি রোববার দুপুরের দিকে। পরে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

যশোর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পালিয়ে যাওয়া রোগীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের আবারও যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যশোর জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ছাড়পত্র না নিয়ে চলে যাওয়া রোগীদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে সেটি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, সোমবার যশোরে করোনাভাইরাসে লক্ষণ চন্দ্র নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি সদর উপজেলার নীলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। রোববার করোনা শনাক্ত হয়ে বাড়িতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৭০ জন। এদিনে যশোরে নতুন করে আরো ৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ছয় হাজার ২২৮ জন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন।

জানা যায়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জিনোম সেন্টারে ১৬১টি নমুনায় ৩৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া যশোর জেনারেল হাসপাতালে র‌্যাপিড এন্টিজেন পরীক্ষায় ২৮ নমুনায় চারজন শনাক্ত হয়েছেন। বাকি নমুনা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করা হয়েছে।

মন্তব্য
Loading...