স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হলে লকডাউন নিরর্থক

0 ৪৬

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের নিষ্ঠুর তা-ব চলছে। বাংলাদেশও এ অবস্থা থেকে বাদ নেই। দেশের এবারের অবস্থা গতবারের চেয়ে ভয়াবহ সে চিত্র প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে এ ভাইরাস ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিনই মৃত্যুর রেকর্ড ভাঙছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। দফায় দফায় সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু লকডাউনের লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। সেটা মোটেও মানা হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হলে লকডাউন নিরর্থক ব্যবস্থায় পরিণত হবে।

যশোরে করোনার ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরসহ পরিবহন যোগাযোগের সুব্যবস্থা থাকার সুযোগে এ জেলার ওপর দিয়ে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ চলাচল করে। দেশে করোনাভাইরাস ভীতিকর অবস্থায় মধ্যে অসতর্ক থাকা যাবে না। কেননা যখন একটি দুর্যোগ জাতির ঘাড়ে চাপে তখন সেটি দিনক্ষণ দিয়ে চাপে না। চীন থেকে এ ভাইরাস সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রতিরোধে যেভাবে সতর্ক ব্যবস্তা নেয়া হচ্ছে করোনাভাইরাস দুর্যোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের করণীয় বিষয়ে সর্বপ্রথম গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং তাদেরকে করণীয় বিষয়ের সাথে অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সতর্ক থাকলে অনেকটা প্রতিরোধ করা যাবে ।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কর্মসূচি অনেকটাই কাজ করবে বলে আমাদের বিশ্¦াস। এমন উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। এ কথা মিথ্যে নয়, এই ভয়াবহ মহামারীকে কেউ কেউ পাত্তা দিচ্ছে না। গণপরিবহন বন্ধ, কিন্তু সড়কে ছোট যান চলাচলের নিয়ন্ত্রণ নেই যেন। তাও আবার তাতে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। ইজিবাইক অথবা ভ্যান রিকশায় গাদাগাদি অবস্থায় লোক চলাচল করছে। গত বছর প্রথম লকডাউনে জনস্বার্থে ছোট যানবাহন চলার অনুমতি ছিল। কিন্তু ওই সব বাহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করতো। হাট-বাজারের অবস্থাও তাই। সেখানকার অবস্থা দেখলে ধারণাই করা যাবে না দেশে লকডাউন চলছে। সরকার সতর্কতামূলক ১৮টি নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনাগুলো পালনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী হয়ে পড়েছে। অবশ্য কিছু কিছু জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত নির্দেশনা ভঙ্গকারীদের জরিমাণা করছেন। এটা আরো ব্যাপকভাবে চালানো জরুরী হয়ে পড়েছে। এ ব্যবস্থায় ছাড় দিলে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না। স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করার জন্য যে লকডাউন সেই স্বাস্থ্যবিধি যদি উপেক্ষিত হয় তাহলে লকডাউন নিরর্থক হবে। তাই কারো স্বেচ্চাচারকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না । হ-য-ব-র-ল অবস্থার নিরসন করতেই হবে। নতুবা অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা সহজেই অনমান করা যায়।

মন্তব্য
Loading...