যশোর জেলার নামে ঢাকার লালবাগ তায়কোয়ানডো ক্লাবের ৭ খেলোয়াড়

বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসে জালিয়াতি

৩৩০

প্রতীক চৌধুরী ও এমএ রাজা

যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নাম ভাঙিয়ে বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসে ২০২০ এর তাইকোয়ানডো ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে ঢাকার লালবাগ তায়কোয়ানডো ক্লাবের প্রশিক্ষকসহ ৭ জন খেলোয়াড়। তারা যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা মনোনীত খেলোয়াড় নয়। জালিয়াতির মাধ্যমে তাদেরকে যশোর জেলার খেলোয়াড় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক কমিটির অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ও বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরিত ওই পরিচয়পত্রে তাদেরকে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার খেলোয়াড় উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন, বোরহান উদ্দীন, আবিদ বরকতুল্লাহ, সামির হোসেন, আতিকউজ্জামান খান, সাব্বির আহম্মেদ, সিয়াম আহম্মেদ ও আব্দুল আহাদ হিরা।

এ প্রসঙ্গে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার তাইকোয়ানডো পরিষদের সভাপতি দেবাশীষ মিশ্র জয় ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালিউর রহমান বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসে অংশগ্রহণের জন্য জেলা ক্রীড়া সংস্থা কোন তায়কোয়ানডো খেলোয়াড়কে প্রত্যয়নপত্র দেয়নি। বাংলাদেশ অলিম্পিক কমিটি ও বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের কতিপয় ব্যক্তি ভুয়া প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে লালবাগ তায়কোয়ানডো ক্লাবের প্রশিক্ষকসহ ৭ জন খেলোয়াড়কে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার খেলোয়াড় দেখিয়ে বাংলাদেশ গেমসে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছে। এই জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর জেলার খেলোয়াড়দের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।

যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার তায়কোয়ানডো পরিষদের নেতারা বলছেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার নাম ভাঙিয়ে বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসে অংশগ্রহণকারী ৭ জনের কেউই যশোরের বাসিন্দা নয়। অংশগ্রহণকারীদের একজন বোরহান উদ্দীন। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের হোম পেজে একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে তিনি লালবাগ তায়কোয়ানডো ক্লাবের প্রশিক্ষক। আর তার ফেসবুক পেজে শেয়ার করা বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসে ২০২০ এর পরিচয়পত্রে তাদের যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ উপলক্ষে কোন চিঠি পায়নি জেলা ক্রীড়া সংস্থা। এমনকি তারা কোন খেলোয়াড়কে অংশগ্রহণের প্রত্যয়নপত্রও দেননি। এ ধরনের দুর্নীতির সাথে জড়িত কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার তায়কোয়ানডো পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

জালিয়াতি এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকার লালবাগ তায়কোয়ানডো ক্লাবের প্রশিক্ষক বোরহান উদ্দিন বলেন, আমরা তায়কোয়ানডো ফেডারেশনে সাতজনের নামে তালিকা জমা দিয়েছিলাম। আমাদেরকে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার খেলোয়াড় হিসেবে বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে বোরহান উদ্দিন বলেন, তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন।

এই বিষয়ে মাহমুদুল ইসলাম রানা বলেন, ‘যশোর জেলা দলের ম্যানেজার শহীদ এই বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবে। তবে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক যদি নিষেধ করে তাহলে খেলতে দিব না।

যশোর জেলা দলের ম্যানেজার পরিচয়দানকারি বিএম শহিদুল ইসলাম এই প্রতিবেদকের কাছে নিজেকে চৌগাছা তায়কানডো ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক বলে দাবি করেন। সেই সাথে চৌগাছা তায়াকোয়ানডো ক্লাব দক্ষিন বঙ্গের একমাত্র ফেডারেশন স্বীকৃত ক্লাব বলে দাবি করেন। তবে তিনি যশোর জেলা দলের ম্যানেজার কিভাবে হলেন তার কোন সমুচিত জবাব দিতে পারেননি। বিষয়টি বারবার এড়িয়ে যান।

এ প্রসঙ্গে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবীর বলেন, বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসে আমরা কোন টিম পাঠাইনি। আমাদের কাছে চিঠিও আসেনি। যদি কেউ যশোর জেলার নামে অংশ নেয়, তবে সেটি জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে।

জানা যায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সকল শ্রেণির ক্রীড়াবিদদের স্বপ্নের গেমস ‘বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পহেলা এপ্রিল এই গেমস উদ্বোধন করা হয়েছে। চলবে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত। এতে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় জেলা ক্রীড়া সংস্থার কৃতী খেলোয়াড়গণ তাদের ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পায়। স্ব-স্ব ক্রীড়া ফেডারেশন জেলা ও বিভাগীয় জেলা ক্রীড়া সংস্থা বরাবর খেলোয়াড়ের চাহিদা মোতাবেক পত্র প্রদান করে থাকে। কিন্তু এ আইনকে উপেক্ষা করে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভুয়া প্রত্যয়নপত্র দেখিয়ে ঢাকেশ্বরী লালবাগ তায়কোয়ানডো ক্লাবের প্রশিক্ষকসহ ৭ জন খেলোয়াড় বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস ২০২০ এ তায়কোয়ানডো ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে।

মন্তব্য
Loading...