৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর উদ্দীপ্ত ঘোষণাই বাঙালির স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা : মেয়র লিটন

৫১

বেনাপোল প্রতিনিধি

বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ উপলক্ষে বেনাপোলে আনন্দ উৎসবে হয়েছে। রোববার বিকেলে বেনাপোল পোর্ট থানা আয়োজিত আনন্দ উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।

মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেছেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য দিন। সুদীর্ঘকালের আপোশহীন আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।

এ দিন লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে জাতির অবিসংবাদিত মহান নেতা বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর এই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ (বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক মামুন কবির তরফদার, বেনাপোল পৌর প্যানেল মেয়র সাহাবুদ্দিন মন্টু, পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন খান, ওসি আজিজুল হক (তদন্ত), রাছেল হোসেন, সাংবাদিক মহসিন মিলন, বীরমুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জেল হোসেন প্রমুখ।

অপরদিকে, বিকেল ৫টার দিকে বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে শার্শা উপজেলা শাখা ও বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সহসভাপতি শহিদুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন সরল উদার মানুষ। তার সেই দিনের সেই সরল হৃদয় থেকে যে ভাষণটি রেখেছিলেন তাতে সাড়ে ৭ কোটি বাঙালি একত্র হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। ১৯৭১ সালের এই ৭ মার্চ ছিল রোববার, ২২ ফাল্গুন বসন্ত ঋতু। আজ ৫০ বছর পরও সেই দিন মাস ক্ষণ কাকতালীয়ভাবে মিলে গেছে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ যারা স্থির মস্তিষ্কে শুনবে, তারা বুঝবে এর মর্ম। তারা প্রতিদিন এর নতুনত্বতা খুঁজে পাবে। সেই ভাষণে যা কিছু শুভ যা কিছু কল্যাণকর তাই ছিল। এই ভাষণটি ইতোমধ্যে ১১টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। এই ভাষণটি ৪০টি ভাষায় অনুবাদ করার প্রক্রিয়া চলছে। ইউনেস্কো যে ৭৮টি ভাষণ লিপিবদ্ধ করেছে, সেখানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ রয়েছে ৪০তম স্থানে। তিনি ছিলেন মানুষপাগল। তিনি মায়া-মমতা দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে এই জাতিকে মুক্ত করেছেন। এই নিরন্তর সম্প্রীতির উৎস হচ্ছে ভালোবাসা। একটি মানুষ একটি জাতিকে কত বেশি ভালোবাসতে পারে বঙ্গবন্ধু তার উদাহরণ। পৃথিবীর কোন দেশে কোন নেতা তার মতো জাতিকে ভালোবাসতে পারে নাই। তার আকাক্সক্ষা ভালোবাসা ছিল এই ভূখ-কে নিয়ে। এই ভূখ-ে আমাদের ৩০ লক্ষ শহিদ হয়েছেন ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি হয়েছে। তিনি পাকিস্তানিদের বলেছিলেন যদি আপনারা গুলি চালানো বন্ধ না করেন, তাহলে আর আপনাদের সাথে মুখ দেখাদেখি হবে না। এই সহজ সরল কথা ছিল সেদিন বঙ্গবন্ধুর।

মেয়র লিটন আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের যে আহ্বানে বাঙালি জাতি দেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে মুক্ত করেছেন; সেই আহ্বানে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই আমরা তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে বাস্তবে রূপ দিতে চাই। আজ জাতির জনক এর কন্যা অনেক লড়াই সংগ্রাম করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এসেছিলেন পাহাড়ি পথ দিয়ে। ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে আজ দেশকে তিনি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর মানুষ যে প্রতিবাদ না করেছে জাতির জনক এর মৃত্যুর পর প্রকৃতি তার চেয়ে বেশি প্রতিবাদ করেছে।

উপস্থিত ও বক্তব্য রাখেন বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ মাস্টার, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ইলিয়াছ আযম, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান, শার্শা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, লক্ষনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারা বেগম, উপজেলা যুবলীগের যুগ্মআহ্বায়ক সেলিম রেজা বিপুল, নিজামপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আশরাফুল আলম বাটুল, যশোর জেলা আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের কার্যকরী সদস্য জাকির হোসেন আলম, শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্মআহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সজল, প্রচার সম্পাদক এনামুল হক মুকুল প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আজিবর রহমান।

মন্তব্য
Loading...