যশোরে দাবি মেনে নেয়ায় পরিচ্ছন্নকর্মীদের আনন্দ মিছিল

২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্জ্য সংগ্রহকারী ভ্যানচালক (বাঁশিওয়ালা) কাজে এনজিওদের অপতৎপরতা বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন যশোর পৌর কর্তৃপক্ষ।

মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু এবং যশোর পৌরসভা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের আলোচনার মাধ্যমে এ দাবি মেনে নেয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর মিউনিসিপ্যাল প্রিপারেটরি উচ্চবিদ্যালয়ে এ আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

যশোর পৌরসভা শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক হিরন লাল জানান, সভায় মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু পৌরসভায় কর্মরত সকল শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশার কথা অতীব মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং শ্রমিকদের সাথে পৌরসভার উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে শ্রমিকদের সকল দাবি-দাওয়া সম্পর্কে অবগত হন। তারই প্রেক্ষিতে গেজেট অনুসারে দৈনিক ৪৫০ টাকা প্রদানের বিষয়টি এবং শ্রম আইনের বিষয় এবং পৗরসভার আয়-ব্যয়ের কথা চিন্তা করে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেন।

পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন জানান, পৌরসভা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের দাবির প্রেক্ষিতে পরিচ্ছন্ন কাজে অর্থাৎ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এনজিওদের কার্যক্রম থাকবে না। ঝাড়ুু, হ্যান্ড ট্রলি, ড্রেনের কাজে দিনে ৫০ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা বৃদ্ধি করে ৭০ টাকা এবং ট্রাকে কর্মরত শ্রমিকদের ১২০ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা বৃদ্ধি করে ১৫০ টাকা করা হয়েছে। দুপুর শিফটে চার হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া পৌরসভায় কর্মরত কোন শ্রমিক মারা গেলে নগদ ৩০ হাজার টাকা আর শ্রমিকের পরিবারের কেউ মারা গেলে ১০ হাজার টাকা প্রদান হবে।

সমঝোতা এ আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন পৌরমেয়র জহিরুল ইসলাম টাকলাদার রেন্টু। শ্রমিকদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন যশোর পৌরসভা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মতিলাল হরিজন, সহসভাপতি মন্টু হরিজন, সাধারণ সম্পাদক কমল বিশ্বাস, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক হিরন লাল সরকার, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি রাজেন বিশ্বাস প্রমুখ।

এদিকে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেয়রকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেন যশোর পৌর এলাকায় পরিচ্ছন্নকর্মীরা। একে অপরকে রঙ মাখিয়ে লালদিঘি হরিসভা মন্দির থেকে বাদ্যের তালে তালে মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

উল্লেখ্য, বর্জ্য সংগ্রহকারী ভ্যানচালক (বাঁশিওয়ালা) কাজে এনজিওদের অপতৎপরতা বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি না মানায় আবারো ২৮ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকাল কর্মবিরতির ঘোষণা দেন যশোর পৌরসভা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ। অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে ছিল পরিচ্ছন্নতা শ্রমিকদের প্রবিধানানুযায়ী মজুরি প্রদান, ছাঁটাই বন্ধ ও অহরিজনদের পরিচ্ছন্নতা কাজে চাকুরি না দেওয়াসহ শ্রম আইন বাস্তবায়নকরণ।

এরপর ২৯ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের মৌখিক নির্দেশনায় যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক সভায় পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু ঢাকা থেকে যশোর আসার পর এক সপ্তাহের মধ্যে শ্রমিক ইউনিয়নের সকল দাবি জেলা প্রশাসকের মধ্যস্থতায় নিষ্পত্তি হবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এনজিওদের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এমন আশ^াসের ভিত্তিতে যশোর পৌরসভার শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের অনির্দিষ্টকাল কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেন। সেই আলোচনা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হলো। যা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানান পৌর কর্তৃপক্ষ ও যশোর পৌরসভা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য
Loading...