ডুমুরিয়ায় শালতা নদীর বাঁধ ভেঙে দুই গ্রাম প্লাবিত

২৯

অরুন দেবনাথ, ডুমুরিয়া

খুলনার ডুমুরিয়ার শালতা নদীর জোয়ারের পানির তীব্র স্রোতে নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধ তৃতীয়বারের মতো ভেঙে গিয়ে তলিয়ে গেছে ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউয়িনের লতাবুনিয়া ও বাঁশতলা গ্রাম দুটি। ভেসে গেছে ছোটবড় প্রায় দুইশ চিংড়ি ঘেরসহ সবজিক্ষেত। গৃহহীন হয়ে পড়া অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের ওপর। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট।

সরেজমিনে কথা হয় বাঁধের ওপর আশ্রয় নেয়া লতাবুনিয়া গ্রামের সান্তনা মিস্ত্রি, নমিতা রায়, রবিন রায়সহ অনেকের সাথে।

তারা জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় বাঁধ ভেঙে গ্রাম দুটি ডুবে যায়। সেই থেকে বাঁধের ওপর বাস করছি। এ পর্ষন্ত কোন সরকারি সাহায্য পাইনি। খেয়ে-না খেয়ে দিন যাচ্ছে। কেউ খোঁজ নেয়নি।

তারা বলেন, ‘আশা করিলাম এবার শুকনোর সময় রাস্তা বান্ধা হলি আবার বাড়ি ফিরে গিয়ে কাজকাম করে সংসার চালাতি পারবানে। আবার রাস্তা নতুন করে ভাঙে গেছে। আর বাড়ি যায়া হলো না।’

উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাশ বলেন, গ্রাম দুটি ব-দ্বীপ আকৃতির। চারিদিকে শালতা ও ভদ্রা নদী দিয়ে বেষ্টিত। প্রায় ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে শালতা নদী তীরবর্তী বাঁধ ভেঙে যায়। স্থানীয় ও সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গ্রাম দুটি রাস্তাঘাট মেরামত করা হয়। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে শালতা নদীর পাশ দিয়ে নির্মাণাধীন বাঁধ ভেঙে যায়। নতুন করে কমিটি করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে বর্তমান বাঁধ মেরামতের কাজ করা হচ্ছে।

লতাবুনিয়া গ্রামের নির্বাচিত ইউপি সদস্য শংকর গাইন জানান, নতুন ও পুরাতন কমিটির মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়ায় গত রোববার সকালে বাঁধের কাজ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এতে দিলীপ মন্ডল, সুজিত মন্ডল, সুশান্ত মন্ডল আহত হয়েছেন বলে শুনেছি।

প্রকল্পের নির্বাচিত কমিটির সভাপতি দিলীপ কুমার মন্ডল বলেন, বাঁধ নির্মাণের জন্য সম্প্রতি ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। গোপনে একটি কমিটি তৈরি করে ৫১ লাখ টাকায় চুক্তি করে সিডিউল বহির্ভূত নি¤œমানের কাজ করায় পুনরায় বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। বিষয়টি সন্তোষ মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে আমাকে ভাই সুজিত মন্ডলকে মারপিট করে আহত করেন।

মন্তব্য
Loading...