নৌকার প্রার্থীর গাড়িবহরে ঠাসা ইউনিয়নের নেতারা

৩৮

দেবু মল্লিক

যশোর পৌরসভা নির্বাচনের অনিশ্চয়তা কাটলেও ভোট গ্রহণের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বসে নেই প্রতীক পাওয়া মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। গতি কিছুটা কমলেও তারা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নৌকার প্রার্থীর পক্ষে প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে একাধিক কর্মীসভা করা হচ্ছে। কিন্তু এসব সভায় পৌর এলাকার নেতাকর্মীদের থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইনি জটিলতায় সেই নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে নির্বাচনের আইনি জটিলতা কাটলেও এখনো ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে ভোট গ্রহণ স্থগিত থাকলেও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, যশোর পৌরসভার নির্বাচনী তৎপরতায় শহর আওয়ামী লীগ একপ্রকার নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। প্রথমদিকে ওয়ার্ড পর্যায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করলেও নির্বাচন নিয়ে জটিলতা শুরু হলে সেই প্রক্রিয়া থেমে যায়। তবে থেমে যাননি নৌকার প্রার্থী হায়দার গনি খান পলাশ। তিনি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মীসভা করছেন। এসব সভায় শহর আওয়ামী লীগ, শহর যুবলীগ, পৌর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তেমন দেখা যাচ্ছে না। ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরাও তেমন সক্রিয় নন। শহরের নেতাকর্মীদের ভোট নিয়ে আগ্রহ কমলেও এখনো ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা বেশ সক্রিয়।

শহর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচন স্থগিত থাকায় তারা এখন প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না। তারিখ ঘোষিত হলে আবার তারা আগের মতো প্রচারণায় নামবেন। আর এখন যারা প্রচারণার নামে পথসভা করছেন এটা মূলত ‘প্রজেক্ট’। ‘কর্মচারী লীগের’ নেতারা এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শহরের এসব কর্মীসভার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মিন্টু। তিনি মূলত উপজেলা পর্যায়ের নেতা। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পাননি তিনি। আসন্ন নির্বাচনেও কাশিমপুর থেকে ইউপি নির্বাচন করতে আগ্রহী মেহেদী হাসান মিন্টু। এজন্য দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আছেন তিনি। সংগত কারণে শহর পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে তার যোগাযোগ কম। আর এজন্য যশোর পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পথসভায় শহর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতার উপস্থিতি বেশি।

যশোর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের কর্মীসভায় ঘুরে ফিরে যারা থাকছেন তাদের মধ্য রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা সুখেন মজুমদার, ফারুক আহমেদ কচি, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আবুল হোসেন খান উপশহর ইউনিয়নের বাসিন্দা। এদের মধ্যে সুখেন মজুমদার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী। ৮নং ওয়ার্ডসহ কয়েকটি কর্মীসভায় বক্তব্য রাখা সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্মআহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম মাজহার ও শহিদুজ্জামান শহিদ আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ইছালী ও আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী। প্রায় প্রতিটি কর্মীসভায় থাকছেন ওহেদুজ্জামান বাবলু। তিনি সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি। রামনগরের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমামুল কবির, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মোফিজুর রহমান ডাব্লু, সাধারণ সম্পাদক আবু সিদ্দিকও বেশ কয়েকটি কর্মীসভায় বক্তব্য দেন। এছাড়া নির্বাচনী তৎপরতায় অংশ নিচ্ছেন চৌগাছা-ঝিকরগাছার সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের শার্শা অঞ্চলের সদস্যসহ যশোর শহরের বাইরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

এ ব্যাপারে যশোর শহর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্মআহ্বায়ক ফিরোজ খান বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় বর্তমানে শহর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা বেশি থাকছেন এটা ঠিক। তবে এক পর্যায়ে সব ঠিক হয়ে যাবে। যারা আসছেন তারা আওয়ামী লীগ পরিবারের লোক। নৌকাকে ভালোবেসে কর্মীসভায় যোগ দিচ্ছেন। এটা দোষের কিছু নয়।

মন্তব্য
Loading...