শার্শায় অপ্রতিরোধ্য আয়নাল চেয়ারম্যান!

১৪

নুরুল কবির

শার্শায় যুবক জিল্লুর রহমান ও তার মা নুরজাহান বেগমকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখমের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শার্শার ত্রাস অপ্রতিরোধ্য উলাশী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আয়নাল হোসেনের সঙ্গে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সোমবার এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত জিল্লুর রহমান শার্শার উলাশী ইউনিয়ন কন্যাদাহ গ্রামের খায়বার সরদারের ছেলে।

আহত যুবকের ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, আয়নাল হোসেন শার্শার ত্রাস। তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দখলবাজি ও একক আধিপত্য বিস্তারে নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে। এই আয়নাল হোসেন বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিল। এলাকায় আজিজুল হত্যার দায়ে প্রায় দেড়যুগ জেল খাটে। এরপর আওয়ামী লীগে যোগদান করার পর থেকে এলাকায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তার হুকুমে নুর ইসলাম মেম্বার, মোজাম্মেল, কিতাব গাইন আজিজুল নিহত হয় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমাতায় আসার পর। এই ৪ জন একই বংশের। এরা একবছরের মধ্যে তার বাহিনীর হাতে নিহত হয়। ওই সময় আয়নাল দল বদলিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করে এলাকায় নৃশংসমূলক কাজ করে আসছে। আহত জিল্লুর রহমানের পিতা খয়বার সরদারের প্রায় ৭০ বিঘা জমি দখল করে দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগ করে আসছে আয়নাল চেয়ারম্যান। এ জমি তারা বিভিন্ন মহলে ধরনা দিয়ে উদ্ধার করার পর আবারও হিংস্র হয়ে উঠেছে আয়নাল চেয়ারম্যান। তার ভয়ে জিল্লুর রহমানের পরিবার প্রায় এক যুগ বাড়ির বাইরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সম্প্রতি তার পিতা চরম অসুস্থ হলে নিজ বাড়ি যেতে আগ্রহ প্রকাশ করলে আমরা সেখানে মা ও ছোট ভাইসহ তাকে পাঠিয়ে দিই। এরপর গত সোমবার আমাদের বাড়ির মেহগনি গাছ আমার ছোট ভাই জিল্লুর রহমান বিক্রি করতে বাড়ি গেলে তাকে আয়নাল হোসেন তার সন্ত্রাসী বাহিনী ইউনুছ হোসেন, শফিকুল, আলম হাসানসহ একাধিক লোক নিয়ে বাড়ি গিয়ে ঘরের মধ্যে রড, দা, লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। এসময় তার মা নুরজাহান বেগম ছেলের আর্তনাদ সহ্য করতে না পেরে ঠেকাতে গেলে তাকেও মারপিট করে আহত করে। রক্তাক্ত জিল্লুরকে স্থানীয়রা ধরে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এরপর অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খয়বার সরদার এর স্ত্রী নুরজাহান বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, তার ছেলে বাড়িতে মেহগনি গাছ বিক্রি করতে আসলে তাকে আয়নাল চেয়ারম্যান দাঁড়িয়ে থেকে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বেধড়ক মারপিট ও কুপিয়ে আহত করে। আমি ছেলেকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসলে আমাকেও তারা মারধর করে। আমার হাতে কুপানো হয়। লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়।

এ ব্যাপারে উলাশী ইউনিয়ন চেয়ারম্যন আয়নাল হোসেন বলেন, আপনারা এসে দেখে যান জমি কে ভোগ করছে। আর জিল্লুর উলশী ইউনিয়নের মেম্বার তরিকুল ইসলাম মিলনের সাথে আঁতাত করে আমাকে মারার জন্য এলাকায় এসেছিল। এ খবর পেয়ে তাকে দু’চারটা বাড়ি মারা হয়।

শার্শা থানা ওসি বদরুল আলম বলেন, কন্যাদাহ গ্রামে যে ঘটনা ঘটেছে তা আমরা শুনেছি। ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। তবে থানায় এখনো কোন মামলা হয়নি। মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য
Loading...