গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের আগে ভাটার ট্রাক নিয়ন্ত্রণের আইন চাই

২০

গ্রামীণ অর্থনীতি গতশীল করার লক্ষ্যে সংস্কারের মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক টেকসই ও মজবুত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর আওতায় উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩৫৩ কিলোমিটার পল্লী সড়কের প্রশস্ততা বাড়ানো হবে। এ লক্ষ্যে ১৭ বছর আগে জারি করা পল্লী অঞ্চলে সড়ক নির্মাণবিষয়ক সরকারি গেজেট বাতিল করে, নতুন গেজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে, যার কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। নতুন প্রস্তাবে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এতে এলজিইডি ২৪ ফুট পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করতে পারবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রামীণ অর্থনীতির অগ্রগতির কারণে পল্লী সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে গ্রামীণ সড়ক যান চলাচলের সক্ষমতা হারাচ্ছে। এ জন্য নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী যান চলাচলের ওপর ভিত্তি করে এলজিইডির আওতাধীন সড়কের সর্বনিম্ন পুরুত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৯০ মিলিমিটার। বর্তমানে সর্বনিম্ন ৫৮২ মিলিমিটার পুরুত্বে এলজিইডি সড়ক নির্মাণ করছে। রাস্তা টেকসই করতে নির্মাণ উপকরণও উন্নত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ৬০-৭০ গ্রেড বিটুমিন ব্যবহারের ওপর। সারা দেশের এলজিইডি সড়ককে প্রশস্ত ও টেকসই করা না হলে অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। বর্তমান যান চলাচল, ক্রমবর্ধমান গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত ট্রাফিক এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় এসব সড়ক যথাযথ মানে উন্নীত করা হবে।

সরকারের এ উদ্যোগ ‘গ্রাম হবে শহর’ প্রকল্পকে এগিয়ে নেবে। একটি দেশের উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই অগ্রাধিকার পাবার যোগ্য। এ দিক থেকে বর্তমান জনবান্ধব সরকারের এ উদ্যোগ প্রশংসার শতভাগ দাবি রাখে। তবে এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে গ্রামীণ সড়ক যতই উন্নয়ন করা হোক না কেন ইট ভাটার আগ্রাসনে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। সড়ক উন্নয়ন কাজে হাত দেভার আগে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি যে গ্রামীণ সড়কে ইটভাটার ট্রাক চলতে পারবে না। অতিরিক্ত লোডের ট্রাক চলাচলে রাস্তাগুলো বিদ্যুৎ গতিতে ধ্বংস হয়ে যায়। সরকারের কোটি কোটি টাকা পানিতে চলে যায়। দেখা গেছে, একটি রাস্তার ওপর নির্ভরশীল দু-পাঁচ গ্রামের ১০-২০ হাজার মানুষ, কিন্তু মাত্র একজন ভাটা মালিকের স্বার্থে ওই ব্যাপক মানুষের কল্যাণের রাস্তাটি ধ্বংস হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে জনসাধারণ কিছুই বলতে পারছে না।

কৃষি এবং কৃষিনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প আধুনিকায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন দিশার সূচনা হতে পারে। বিশেষ করে হস্ত ও বয়ন শিল্প, খাদি ও গ্রামোদ্যোগে উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের ফলে মৎস্য, ফুল, পাট, পান চাষ, পশুপালন, দুগ্ধ প্রকল্প, ইক্ষু চাষ এবং চা ও কাগজ শিল্প আমাদের অর্থনীতিকে নতুন দিশা দেখাতে পারে। এছাড়া পাহাড়িদের জুম চাষও অর্থনীতিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে। এ কারণে গ্রামীণ সড়কের মানোন্নয়নের বিকল্প নেই।

মন্তব্য
Loading...