হাঁস পালনে স্বাবলম্বী হতে চান মাগুরার বেকার যুবকরা

১৭

কাসেমুর রহমান শ্রাবণ, মাগুরা

মাগুরা জেলায় বেশ কিছু যুবক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশি হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ নিজের মাছের পুকুরে, কেউ পতিত জমিতে ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি হাঁস পালন করছেন। আর তাদের এ হাঁস পালন দেখে জেলার অনেক বেকার যুবক ঝুঁকছেন হাঁস খামার করতে। জেলায় গড়ে উঠেছে ছোট বড় ১২০টির উপরে হাঁসের খামার। তবে খামারিরা জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের যথার্থ সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন।
মাগুরা সদরের পারনান্দুয়ালী গ্রামের হাঁস চাষি আকিদুল ইসলাম জানান, সদরের মঘি ইউনিয়নে ৪ একর জমির একটি দিঘিতে আমি প্রথমে মাছ চাষ শুরু করি। সেখানেই মাছ চাষের পাশাপাশি দেশি ক্যাম্বেল হাঁস পালন করি। বর্তমানে আমার খামারে ১০০০ দেশি হাঁস আছে। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আমি তাদের নিয়মিত পরিচর্যা করি। প্রতিদিন এ খামার থেকে ৪০০ থেকে ৪৫০টি ডিম আসছে। সামনে ডিম আরো বাড়বে। বাজারের পাইকারি ডিম ব্যবসায়ীরা খামার থেকে ডিম নিয়ে যান। আমার খামার দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক এ চাষে উদ্ধুদ্ধ হচ্ছেন।
সদরের চাউলিয়া ইউনিয়নের সিরিজদিয়া বাঁওড়ে অন্য হাঁস চাষি সোহেল জানান, আমি ফরিদপুর রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছি। নিজের পড়াশুনার পাশাপাশি বেকার না থেকে নিজের গ্রামের বাঁওড়ে হাঁস চাষ করি। সেই থেকে শুরু আজ অবধি একটানা খাটুনি। আমি জেলার প্রাণিসম্পদ অফিসে হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করতে যাই। কিন্তু তাদের মেশিন নষ্ট থাকায় তারা আমাকে বাচ্চা দিতে পারেনি। পরে খুলনার দৌলতপুর থেকে হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করে খামারে পরিচর্যা শুরু করি। বর্তমানে হাঁসের ভ্যাকসিন সংকট থাকায় এ চাষে অনেকটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। হাঁসের ভ্যাকসিন দিতে পারলে তারা হয় আরো দীর্ঘস্থায়ী ও সবল। আমার খামারে বর্তমানে ৪০০ চাষ পালন করছি।
সদরের চাঁদপুর গ্রামের দুবাই ফেরত যুবক আশরাফুল বলেন, পরিবারের সহযোগিতার জন্য বিদেশ গিয়েছিলাম। সেখানে অনেক পরিশ্রম করেছি। দেশে ফিরে দেশি হাঁস পালন শুরু করি। এ হাঁস চাষে আমার পরিচর্যা কম করতে হয়। পুকুরের শামুক, লতাপাতা ও প্রাকৃতিক খাদ্যই তারা বেশি খায়।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হাদিউজ্জামান জানান, জেলায় ছোট-বড় ১২০টির ওপরে হাঁসের খামার রয়েছে। বেকার যুবকদের উদ্ধুদ্ধ, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা জেলায় আরো খামার বাড়াতে চেষ্টা করছি। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে এসব খামার দেখভালের জন্য কাজ করছে আমাদের মাঠকর্মীরা। বর্তমান সরকার বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করতে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তর বেকার যুবকদের বর্তমানে ৪% হারে ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে।

মন্তব্য
Loading...