মণিরামপুরে ট্রিটমেন্টপ্লান্টের কাঠ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে কোরিয়ায়

0

প্রবীর কুন্ডু, মণিরামপুর

ফার্নিচার তৈরির কাঠ কাঁচা হলেও আর সমস্যা নেই। কাঠ ৭২ ঘন্টা ট্রিটমেন্টপ্লান্টে প্রসেসিংয়ের পর আসবাবপত্র তৈরি করা হলে ঘুনসহ কোন পোকায় আক্রমণ করতে পারবে না। প্রসেসিং করা কাঠ দিয়ে তৈরিকৃত আসবাবপত্রের স্থায়ীত্বও হবে দীর্ঘদিন।
এমন গ্যারান্টি দিয়ে যশোরের মণিরামপুরে জেএস সমিল এন্ড ট্রিটমেন্টপ্লান্ট থেকে প্রসেসিংকৃত কাঠ দেশের গ-ি পেরিয়ে এবার রপ্তানি শুরু হয়েছে কোরিয়াতে। ফলে একদিকে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হচ্ছে, অপরদিকে অনেক মানুষের কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে জেএস ট্রিটমেন্টপ্লান্ট।
আর এই ট্রিটমেন্টপ্লান্টের কর্ণধার লন্ডন প্রবাসী মণিরামপুরের কৃতী সন্তান খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরশহরের মণিরামপুর-ঢাকুরিয়া সড়কের পাশে (মহাদেবপুর) সাড়ে চার বিঘা জমির ওপর ২০১৭ সালে নির্মাণ করা হয় জেএস সমিল এন্ড ট্রিটমেন্টপ্লান্টটি। এখানে বড় বড় কাঠ চেরাই করতে সাধারণ করাতের পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে ট্রলি মেশিন। আর এ প্লান্টে বর্তমান শ্রমিক রয়েছে ২৫ জন।
প্লান্টের ম্যানেজার খন্দকার মাহবুবে রব্বানী লাভলু জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফার্নিচার কোম্পানি ছাড়াও সাধারণ মানুষও ছোট-বড় কাঠ আনেন এখানে। কাঠ চেরাইয়ের পর তা তিনশ সেফটি ধারণক্ষমতার সিলিন্ডারের (বয়লার) ভেতর সাজিয়ে রাখা হয়। বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে মিশ্রিত কাঠ সিলিন্ডারের ভেতর হাওয়া দিয়ে রাখা হয় টানা ৭২ ঘন্টা। এরপর সিলিন্ডার থেকে কাঠ বের করে ৩৫ হাজার সেফটি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন হিটার রুমে তিন থেকে চার ঘন্টা রেখে শুকানো হয়। পরবর্তীতে হিটাররুম থেকে বের করে চাহিদামত আসবাবপত্র তৈরি করা হয়। ফলে কাঠের রং ভাল হয়, মজবুত হয় বেশি। এছাড়াও কাঠে ঘুনসহ কোনপ্রকার পোকা আক্রমণ করতে পারে না। যার স্থায়ীত্ব হয় একশ বছর।
তিনি আরো জানান, ফরিদপুর, মাদারিপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামিদামি ফার্নিচার কোম্পানির প্রতিনিধি এবং মণিরামপুরের সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত কাঠ এনে এখান থেকে প্রসেসিং করে নিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, চলতি বছরে এ প্লান্টের প্রসেসিংকৃত কাঠ রপ্তানি হচ্ছে কোরিয়াতে।
কোরিয়ায় সরবরাহকৃত প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নারায়ণগঞ্জের আখি বেগম জানান, অন্যান্য স্থানের চেয়ে মণিরামপুরে এ প্লান্টের প্রসেসিংকৃত কাঠের গুণগতমান খুবই ভাল এবং তুলনামূলক খরচও কম। ফলে তিনি এ প্ল্যান্ট থেকে কাঠ প্রসেসিং করে কোরিয়ায় রপ্তানি করছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আকতারুল ইসলাম জানান, ট্রিটমেন্টপ্লান্টটি স্থাপন করার কারণে এলাকার সাধারণ ভোক্তাসহ ব্যবসায়ীদের আসবাবপত্র তৈরির কাঠ নিয়ে ভোগান্তির শেষ হয়েছে।
জেএস সমিল এন্ড ট্রিটমেন্টপ্লান্টের প্রতিষ্ঠাতা লন্ডন প্রবাসী খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম জানান, শুধু কেরিয়াতে নয়, আরো কয়েকটি দেশে রপ্তানির কথাবার্তা চলছে। আশা করা হচ্ছে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রপ্তানি শুরু করা সম্ভব হবে।

উপজেলা বন কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, মণিরামপুরে সর্বপ্রথম পরিবেশবান্ধব জএস সমিল এন্ড ট্রিটমেন্টপ্লান্টটি স্থাপনের পর বেশ সুখ্যাতি অর্জন করেছে। জেএস ট্রিটমেন্টপ্লান্টের পাশাপাশি আর একটি প্লান্ট স্থাপনের জন্য অপর এক ব্যবসায়ী লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন।

মন্তব্য
Loading...