সনদের সঙ্গে দক্ষ হতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি

0 ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক ও যবিপ্রবি প্রতিনিধি

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেছেন, শুধু সনদপ্রাপ্ত হলে হবে না। সনদলাভের সাথে অবশ্যই দক্ষ হতে। একইসাথে মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। সনদপ্রাপ্ত ও দক্ষ হয়ে যদি মূল্যবোধ না থাকে তাহলে দেশ-দশের কোনো কাজে আসবে না। আমাদেরকে মানবিক মানুষ ও দেশপ্রেমিক হতে হবে।
সনদসর্বস্ব শিক্ষা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আরও বলেন, গতানুগতিক চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থায় আনন্দ নিয়ে আসতে চাই। সংখ্যায় নয়, শিক্ষায় গুণে ও মানের দিকে নজর দিতে হবে।
শনিবার দুপুরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শেখ রাসেল জিমনেসিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ^বিদ্যালয়ের ৫ জন শিক্ষকের গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ পাওয়া, স্কুপাস র‌্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন, করোনাভাইরাস পরীক্ষা করতে এগিয়ে আসায় ও করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করায় বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানিয়ে শিক্ষাবন্ধব সরকার বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের উন্নয়নে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। একইসাথে সুইমিং পুল ও স্টেডিয়াম তৈরিতে সরকার উদ্যোগ নিবে।
উন্নয়ন তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বর্তমান সরকার ‘উচ্চবিলাসী’ প্রকল্প গ্রহন করে বাস্তবায়ন করছে। এটা শুধুমাত্র শেখ হাসিনা বলেই সম্ভব। বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে জননেত্রী শেখ হাসিনা হাঁটছেন। পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু আমাদের থামানো যায়নি। বরং আমরা নিজেরা করে আমাদের আত্মবিশ^াস বেড়েছে।
প্রযুক্তির কল্যাণে পৃথিবী প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে কারণে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি ও নির্দেশনায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি। এ কাজগুলোর জন্য গতানুগতিক চিন্তা বা শিক্ষা ব্যবস্থায় হবে না। সব জায়গায় আমাদের একটু ‘আউট অব বক্স’ চিন্তা করতে হবে। সে জন্য আমাদের জগতে পরিবর্তন আনার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা শুধুমাত্র পড়াশোনা করাচ্ছি, পরীক্ষা দিচ্ছি ও সনদ দিচ্ছি। এমনিতেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটা পরীক্ষানির্ভর এবং সনদসর্বস্ব। ফলে আনন্দহীন। সেটি প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ^বিদ্যালয় পর্যন্ত। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থায় আনন্দ নিয়ে আসতে চাই। আনন্দ নিয়ে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন করবে।
শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি খুঁজে বের করে তা সমাধান করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বিশে^ যোগ্যতায় টিকে থাকার জন্য শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তি হলো উন্নয়নের বাহন। কাজেই নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হতে হবে। শুধু উদ্ভাবন করলেই হবে না, এটার যেন সঠিক প্রয়োগ হয়, সেটাও আমাদের দেখতে হবে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য আমাদের দক্ষ, সুস্থ-সবল জনশক্তি প্রয়োজন উল্লেখ করে ডা. দীপু মনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি ক্রীড়াক্ষেত্রে আমাদের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ, সুস্থ ও সবল এবং কর্মে উদ্যমী প্রজন্ম আমরা গড়ে তুলতে পারি। এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। তিনি যবিপ্রবির গবেষণা, উন্নয়ন কর্মকা- ও ক্রীড়াক্ষেত্রে নৈপুণ্যের ভুয়সী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে যবিপ্রবির উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাশে থাকবে বলে আশ^াস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিশ^বিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ।
তিনি বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ^বিদ্যালয় চ্যাম্পস-২০১৯ এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এ জিমনেসিয়ামটি ঢাকার ইনডোর স্টেডিয়ামের সমকক্ষ। সরকারের কাছ থেকে যে সুবিধা পাচ্ছি তা সত্যিকারভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বিশ^বিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে বিশ^বিদ্যালয়ের একার পক্ষে সেটা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সরকারের সার্বিক সহযোগিতা। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যে আগ্রযাত্রা আজ শুরু হয়েছে, আরও সহযোগিতা পেলে আমরা অতি দ্রুত তার পূর্ণতা দিতে পারব। এ সময় তিনি যবিপ্রবির সম্প্রাসারণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণসহ উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
যবিপ্রবির ডিনস কমিটির আহ্বায়ক ড. নাসিম রেজার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল মজিদ, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আহসান হাবীব ও পরিচালক (শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তর) ড. মোহাম্মদ তোফায়েল আহম্মেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোল্লা আমীর হোসেনসহ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি যবিপ্রবির বিভিন্ন গবেষণাগার, ভবন ও নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই জিমনেসিয়াম নির্মাণ করা হয়।

মন্তব্য
Loading...