পাকিস্তানিদের প্রেতাত্মারা আজো শার্শার রাজনীতিতে অঘটন ঘটাচ্ছে : মেয়র লিটন

0 ৩০

বেনাপোল প্রতিনিধি

বাঙালি জাতিকে লড়াই সংগ্রাম করে অস্তিত্ব অর্জন করতে হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে বাঙালি জাতি লড়াই সংগ্রাম করে যে রক্ত দিয়েছে অন্য কোন জাতিকে ইতিহাসে এত রক্ত দিতে দেখা যায়নি। জেলখানা এমন একটি জায়গা যেখানে সবাই নিরাপদ থাকে সরকারি কাস্টডিতে থাকে। আর সেখানে পাকিস্তানি দোসররা জাতীয় ৪ নেতাকে বর্বরভাবে হত্যা করে কলঙ্ক লেপন করে এদেশকে পিছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। জাতীয় ৪ নেতার এমন আদর্শ ছিল যে তাদের হত্যা করার পর কারো ব্যাংকে কোনো অর্থ ছিল না। তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আদর্শিত হয়ে এদেশের মানুষকে ভালবাসতেন। এদেশের মানুষকে ভালবেসে যাদের জীবন ও যৌবন সংগ্রাম করে লড়াই করে জেল খেটে অতিবাহিত হয়েছে সেই বঙ্গবন্ধুকেও হত্যা করেছে রাজাকার ও পাকিস্তানি দোসররা। যার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে তিনি হচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আজ সকল পথের-মতের মানুষকে প্রাধান্য দেন। যারা মানুষকে ভালবাসে না, কষ্ট দেয় ধোকা দেয় তাদের রাজনীতি শেষ হয়ে যাচ্ছে, আমাদের উন্নত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সকলকে কাজ করতে হবে। জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা করে যে বীরের জাতিকে কলঙ্কিত করা হয়েছে আমরা তাদের ক্ষমা করব না ।
বেনাপোলের পৌরমেয়র ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন একথা বলেন জেলহত্যা দিবসের অনুষ্ঠানে। বেনাপোলে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান হয় মঙ্গলবার। আওয়ামামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ মাস্টার।
পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক সুকুমার দেবনাথের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন শার্শা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, প্যানেল মেয়র শাহাবুদ্দিন মন্টু, যশোর জেলা আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের কার্যনির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন আলম, বেনাপোল পৌর আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি রহমত আলী। দোয়া পরিচালনা করেন পৌর আওয়ামী লীগ নেতা মোজাফ্ফার হোসেন, শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্মসম্পাদক সাইফুল ইসলাম সজল, দপ্তর সম্পাদক আরিফুর রহমান ও পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম। আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক আব্দুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মতিয়ার রহমান মধুসহ পৌর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ, আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম এবং ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি আশরাফুল আলম লিটন বলেন, পাকিস্তানিদের দোসররা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি। তাই তারা আওয়ামী লীগের মধ্যে তথা সরকারের ছত্রছায়ায় ঘাপটি মেরে থেকে ৭৫-র ভয়াবহ হত্যাকা- ঘটিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে। আর এই খুনি চক্রের প্রধান হোতা খন্দকার মোশতাক আহম্মেদ ও জিয়াউর রহমানের নির্দেশনায় জেলখানায় জাতীয় ৪ নেতাকে বর্বরভাবে হত্যা করা হয়। এই পাকিস্তানি পেতাত্মারা আজও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ভুলুন্ঠিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যার নমুনা আমরা লক্ষ্য করলাম শার্শা উপজেলার নাভারণের সাতক্ষীরা মোড়ের বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক পাঠশালার কার্যালয়টি জোর করে দখল করার ভেতর। গত ৩১ অক্টোবর যারা এই অপকর্ম করেছেন তাদেরই একজন সোহরাব চেয়ারম্যান। এই মন্দ লোকটি ৪ দলীয় জোট সরকার আমলে নাভারণে আওয়ামী লীগ নেত্রী অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরীর জনসভার ওপর হামলা করে মঞ্চ ভেঙে তছনছ করে দেন। মুক্তিযুদ্ধ চেতনাবিরোধী বিএনপির আদর্শে উজ্জীবিত এবং তাদের ছত্রছায়ায় থেকেই তিনি এই অপকর্ম করেছিলেন। এরকম আরো অনেক মুক্তিযুদ্ধ চেতনাবিরোধীর অনুপ্রবেশ ঘটেছে এই শার্শার আওয়ামী লীগে।

মন্তব্য
Loading...