বাঘারপাড়ায় সন্ত্রাসীদের নির্যাতনের শিকার যুদ্ধাপরাধ মামলার স্বাক্ষী-স্বজনরা

0 ৫৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরের বাঘারপাড়ায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী ও তাদের স্বজনদের উপর হামলা মামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়ের আশ্রয়ে আমজাদ রাজাকারের লোকজন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এমপির এই সন্ত্রাসী বাহিনী প্রতিনিয়ত নির্যাতন করছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন যশোর জেলা জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়। তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগের এমপি। আমজাদ রাজাকারের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এলাকায় আমার কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী নেই।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জহুরুল হক জহির বলেন, আমার দলের নেতাকর্মী এবং আমার পরিবারের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থেকে শীর্ষ রাজাকার আমজাদ মোল্যার বিচারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। যা যশোর-৪ আসনের এমপি রণজিত রায় সহ্য করতে পারছেন না। তারই অংশ হিসেবে বন্দবিলা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব হোসেনের চাচা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী এহিয়ার রহমানকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে আটকে রাখা হয় রাজাকার আমজাদ মোল্যার ভাগ্নে জাহিদুলের বাড়িতে। আর তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে রাজাকার ও এমপির সন্ত্রাসীদের সাথে সংঘর্ষ হয় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেয়া সচেতন মানুষ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের। যে ঘটনায় আহত হয় বেশ কয়েকজন। আহত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে আমজাদ রাজাকারের ঘনিষ্ঠ সহচর ছবেদ আলী। এ হত্যার ঘটনায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীসহ অর্ধশতাধিক নিরীহ লোকের নামে নিহত ছবেদের দুই ছেলে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে মামলা করে। যে মামলা বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাড. জহির দাবি করেন, স্থানীয় রাজনীতিতে এমপি রণজিৎ রায়ের অবস্থান শূন্যের কোঠায় হওয়ার কারণেই তিনি উপজেলার শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী বর্তমানে কারাগারে অন্তরীণ আমজাদ হোসেন মোল্যাকে আওয়ামী লীগে যোগদান করান। একই সাথে তিনি আওয়ামী লীগে টেনে নেন ইউনিয়ন বিএনপির দীর্ঘ ২০ বছরের সভাপতি শওকত হোসেন মন্ডল ও তার ভাই শীর্ষ সন্ত্রাসী আনোয়ার হোসেন টুটুলকে। আওয়ামী লীগের প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশকে যুদ্ধাপরাধী মুক্ত করার জেহাদে সামিল তখন এমপি রণজিৎ রায় কেন একজন যুদ্ধাপরাধীকে দলে টানেন কেনই বা একজন চিহ্নিত রাজাকারের পুত্রবধূর হাত থেকে ফুল নেন মিষ্টি খান। সেটি আপনাদের কাছে প্রশ্ন রইল।
দলীয় নেতাকর্মীদের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে জেলা জাতীয় পার্টি সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জহির বলেন, বাঘারপাড়া এলাকার নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত এমপির সন্ত্রাসীদের দ্বারা হামলা, মামলার শিকার হচ্ছে। এমনকি আমার নিজের পরিবারও হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় আমার ভাইপো ঢাকা তীতুমীর কলেজের ছাত্র হুসাইন আল সাকিব সুমন ও নিজাম মোল্লা রক্তাক্ত জখম হন। এছাড়া ২০১৮ সালে জানুয়ারি মাসে বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা জাতীয় পার্টির প্রচার সম্পাদক আয়ুব হোসেনের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং আয়ুব হোসেন এর চাচাতো ভাই ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সহসাংগঠনিক সম্পাদক জহির মোল্লাকে এমপির ক্যাডার বাহিনী পিটিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট বন্দবিলা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড (প্রেমচারা, দক্ষিণ চাঁদপুর) জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক তৈয়বুর রহমানের পিতা তফসির মোল্লাকে গভীর রাতে গলা কেটে হত্যা করে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। এমপির ইন্ধনে হত্যার শিকার তফসির মোল্লার স্ত্রী ও সাবালক চার সন্তান থাকা সত্ত্বেও মরদেহ উদ্ধারের মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে এসআই নাসিরুল হক খান বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে বাঘারপাড়া থানার মামলা দায়ের করেন। তফসির মোল্লাকে হত্যার পূর্বে এমপি রনজিত রায়ের সন্ত্রাসী বাহিনী একই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি এবং ১৭ জুলাই দুই দফা তফসির মোল্লার বাড়িতে হামলা করে। হত্যা মামলাটি বর্তমানে সিআইডি যশোরে তদন্তাধীন আছে। শুধু হামলা করেই ক্ষ্যান্ত হননি এমপি রণজিৎ। উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামানসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে বাঘারপাড়া থানার পেন্ডিং নাশকতা মামলায় গ্রেফতার করিয়ে জেলও খাটানো হয়েছে। আমি একাদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি রণজিৎ রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছি তাই তিনি ব্যক্তি আক্রোশেই আমার দল ও আমার পরিবারকে ক্ষতি করার জন্য সবসময় চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগামীতে নিরপেক্ষ ভূমিকা রেখে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে আশাবাদী।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরী, সহসভাপতি আব্দুল আজিজ, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মনিরুজ্জামান হিরণ, বাঘারপাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামান তরফদার, বাঘারপাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সোলায়মান হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, সদস্য সচিব শেখ মুকুল হোসেন, বাঘারপাড়া উপজেলা যুবসংহতির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান, বাঘারপাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির প্রচার সম্পাদক আইয়ুব হোসেন প্রমুখ।

মন্তব্য
Loading...