সুদের টাকা লেনদেনে খুন হন কাঠ ব্যবসায়ী মোস্তফা

0 ১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরের চুড়ামনকাটি এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা (৫৫) খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সুদের টাকার জালে আটকে পড়ার ক্ষোভ ও কাঠের ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য গোলাম মোস্তফাকে হত্যার পরিকল্পনা করে আবদুল্লাহ আল মামুন। বাস চালক বন্ধুর সহায়তায় মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর মাদক সেবন করিয়ে নদের পড়ে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে দুজন। লাশ নদে ফেলে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হত্যার রহস্য উদঘাটন দাবি করে প্রেসব্রিফিং এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন। এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
২৫ অক্টোবর সকালে যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ঘোনা গ্রামের ভৈরব নদ থেকে গোলাম মোস্তফার ভাসমান লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় অজ্ঞাত আসামিদের নামে মামলা করেন নিহতের স্ত্রী সালমা বেগম। বুধবার ডিবি পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন-সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৩) ও সদর উপজেলার শাখারীগাতি গ্রামের মাজেদ মোল্যার ছেলে সহিদুল ইসলাম (৩৭)।
প্রেস বিফ্রিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, নিহত গোলাম মোস্তফা পেশায় একজন কাঠ ব্যবসায়ী। ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় তিনি সুদের কারবারও করতেন। মানুষ টাকা ধার দিতেন। বিনিময়ে উচ্চহারে সুদ নিতেন। একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুনও কাঠ ব্যবসায়ী। তবে তিনি আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিলেন না। তাই কয়েক বছর আগে গোলাম মোস্তফার কাছ থেকে দুই লাখ ৪৩ হাজার টাকা সুদে ধার নেন। সেই টাকা বিভিন্ন সময়ে পরিশোধ করেছেন। কিন্তু গোলাম মোস্তফা সুদের সুদ দাবি করে আসায় ঋণের জাল থেকে বের হত পারছিল না আব্দুল্লাহ আল মামুন। একইসাথে গোলাম মোস্তফা এলাকায় বড় কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন। এজন্য তার ব্যবসাও ভাল যাচ্ছিলো না। সুদের টাকার ক্ষোভ আর ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার করার জন্য গোলাম মোস্তফাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মামুন। এরপর ২৪ অক্টোবর শহরের মণিহার এলাকায় গিয়ে বাস চালক বন্ধু সহিদুলের সাথে দেখা করেন মামুন। তখন বন্ধুকে বলেন তার একটা কাজ করে দিতে হবে। সহিদুল জানায় তার বাসের ট্রিপ রয়েছে কাজ করতে পারবেন না। এসময় মামুন বলেন ট্রিপের চেয়ে বেশি টাকা তিনি দিবেন। সহিদুলকে কাঠ ক্রেতা সাজিয়ে তারা মোটরসাইকেলে চুড়ামনকাটি বাজারে আসেন। এরমধ্যে মামুন মোবাইল ফোনে গোলাম মোস্তফাকে জানায় বড় এটা কাস্টমার পাওয়া গেছে। তিনি অনেক কাঠ নিবে, আপনি চুড়ামনকাটি বাজারে চলে আসেন। তার কথামত গোলাম মোস্তফা চলে আসেন। এরপর তিনজন এক মোটরসাইকেলে সলুয়া বাজারে গিয়ে ফেনসিডিল পান করেন। সেখান থেকে ফিরে চুড়ামনকাটি বাজার থেকে গাঁজা কিনে সন্ধ্যার দিকে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তারা গাঁজাসেবন করেন। এক পর্যায়ে মামুন চুরি বের করে মারতে উদ্যত হলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। ভৈরব নদের পাড়ে পড়ে যান গোলাম মোস্তফা। এসময় সহিদুল তাকে চেপে ধরেন, আর মামুন গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করেন। এক নপর্যায়ে লাশ নদের ফেলে দিয়ে তারা কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখে। নিহতের মোবাইল ফোন তারা ভেঙে ফেলে। এরপর তারা পালিয়ে যায়। পরের দিন সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, হত্যাকা-ে দুজন জড়িত ছিলেন। তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভিকটিমের মোবাইল ফোন, হত্যাকা-ে ব্যবহৃত বার্মিজ চাকু, মোটরসাইকেল ও জড়িতদের দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সালাউদ্দিন শিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানী শেখ, ডিবি ওসি সোমেন দাস প্রমুখ।

মন্তব্য
Loading...