আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি

0 ৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও ওফাত দিবস। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের এ দিনে তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন আর ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে একই দিনে ইন্তেকাল করেন। আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করতে এই দিনে তৌহিদের মহান বাণী নিয়ে এসেছিলেন এ মহামানব। বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়সহ শান্তিকামী প্রত্যেক মানুষের কাছে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
চৌদ্দশ’ বছর আগে ১২ রবিউল আউয়াল আরবের মরু প্রান্তরে মক্কায় কুরাইশ বংশে মা আমিনার কোল আলোকিত করে জন্ম নিয়েছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আইয়্যামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে তৌহিদের মহান বাণী নিয়ে আলোর দিশারী হিসেবে এসেছিলেন মহানবী (সা.)।
প্রিয় নবি (সা.) এর আবির্ভাব ও ইসলামের শান্তির বাণীর প্রচার সারাবিশ্বে আলোড়ন তুলেছিল। সেই মহামানবের জন্ম ও ওফাত দিবস ১২ রবিউল আউয়াল মুসলমানদের কাছে এক পবিত্র দিন। দিনটি পবিত্র ঈদের মিলাদুন্নবি হিসেবে পালন করেন। সারাবিশ্ব যখন আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল, তখন আল্লাহতায়ালা তার প্রিয় নবিকে বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।
৪০ বছর বয়সে নবুয়তপ্রাপ্ত হয়ে মানবজাতিকে কুসংস্কার-গোঁড়ামি থেকে শান্তি ও মুক্তির পথে আহ্বান করেছিলেন তিনি। প্রচার করেন শান্তির ধর্ম ইসলাম। ৬৩ বছরে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ বছর শান্তির বার্তাই ছড়িয়ে গেছেন সারাবিশ্বে। এসব কারণেই পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি সারা বিশ্বের মুসলিমদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আর ইসলাম ধর্মমতে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, নবুয়তের শেষ এই নবি মহানবী (সা.) এর দেখানো পথ ও আদর্শ অনুসরণেই নিহিত মানবজাতির অফুরন্ত কল্যাণ। দিনটি উদযাপন উপলক্ষে মসজিদ মসজিদে দোয়ামাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে মহানবির (সা.) জীবন ও কর্মের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করবেন ইসলামি চিন্তাবিদরা। এছাড়া মিলাদ-মাহফিল, দোয়া-দরুদ, জিকির-আসকার ও নানা আয়োজনে দিনটি পালন করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহ’র সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ আমাদের সকলের জীবনকে আলোকিত করুক, আমাদের চলার পথের পাথেয় হোক, মহান আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা করি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই প্রতিটি জনগোষ্ঠীর অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে। আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে প্রিয়নবী (সা.)-এর অনুপম শিক্ষার অনুসরণের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে।
এদিকে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে যথাযথ মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি পালনের জন্য করোনাকালে স্থাস্থ্যবিধি মেনে সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবি (সা.) এর ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়ামাহফিল। এ উপলক্ষে ধর্ম মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন হজরত মুহাম্মদ (স.) এর জীবনের ওপর আলোচনাসভা, মাহফিলসহ বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার যথাযোগ্য গুরুত্বসহকারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে উন্নত খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য
Loading...