যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা পরিষদে বঞ্চিত ক্রীড়া সংগঠকরা

১২৬

এম এ রাজা

‘সকালে উঠেই আমার বিশ হাজার মানুষের বেতন নিয়ে ভাবতে হয়। সারাদিন কাজ শেষে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরি। আমার সময় নেই। আমিতো ঠিকমত দায়িত্ব পালন করতে পারবো না। যারা কাজে আগ্রহী তাদেরকে এই দায়িত্ব দেয়া উচিত। শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার খো খো পরিষদের প্রথম সভার শুরুতে এই মন্তব্য করেন সভাপতি আব্বাস আলী বিশ্বাস। তিনি মোফা ফিস প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী। শুধুমাত্র খো খো পরিষদ নয় যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা গঠিত ১৯টি পরিষদের অধিকাংশেরই প্রধান পদগুলোর দায়িত্বে রয়েছেন রাজনীতিবিদ ব্যবসায়ীরা। এছাড়া সর্বশেষ মেয়াদে কোন লিগ বা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে ব্যর্থ হওয়াদেরকে আবারও একই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর এতে বঞ্চিত হয়েছেন বেশ কয়েকজন ক্রীড়া সংগঠক। আর এই নিয়ে যশোর ক্রীড়াঙ্গনে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদ সেপ্টেম্বর মাসে ফুটবল, ক্রিকেট, প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট, প্রথম বিভাগ ক্রিকেট, দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট, ক্রিকেট ডেভেলপমেন্ট, হকি, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, হ্যান্ডবল, ভলিবল, বাস্কেটবল, সাঁতার ও ওয়াটারপোলো, ব্যাডমিন্টন, বক্সিং, বডি বিল্ডিং ও ভারোত্তোলন, টেবিল টেনিস, কুংফু ও কারাত, লন টেনিস, আর্চারি, খো খো, দাবা, জুডো, কুস্তি ও উশু এবং তায়কান্দো পরিষদ গঠন করেছে।
পদাধিকার বলে ফুটবল, কাবাডি ও লন টেনিস পরিষদের সভাপতি পুলিশ সুপার।
ফুটবল পরিষদের সম্পাদক সাবেক জেলা দলের ফুটবলার এনাম মাহমুদ খান বাবু। যিনি বেশিরভাগ সময় ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় থাকেন। যশোর ফুটবল তৈরি অন্যতম কারিগর হযরত আলীকে রাখা হয়নি কোন পদে। এছাড়া যশোর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থাকার পরও ফুটবল পরিষদ করায় সমালোচনা করেছেন অনেকে। তাদের মন্তব্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাথে মিলে কাজ করলে যশোরের ফুটবল আরো গতিশীল হবে।
ক্রিকেটেরই পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ক্রিকেট পরিষদের সভাপতি জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। সর্বশেষ কমিটিতেও সভাপতি ছিলেন পৌরসভার এই মেয়র। এছাড়াও ক্রিকেট ডেভেলপমেন্ট কমিটির উপদেষ্টা করা হয়েছে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুকে। পাঁচ কমিটির কোনটাতেই রাখা হয়নি খুলনা বিভাগীয় দলের কয়েকবার ম্যানেজারের দায়িত্বপালন করা মঈন উদ্দিন রোমকে। খান মোহাম্মদ শফিক রতনকে রাখা হয়নি পাঁচ কমিটির কোন পদে।
হকি পরিষদের সম্পাদক মাহমুদ রিবন। সর্বশেষ পরিষদেরও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন মাহমুদ রিবন। কিন্তু চার বছরে হকি মাঠে গড়াতে ব্যর্থ হন। তবুও তাকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
অ্যাথলেটিক্স পরিষদের সভাপতি করা হয়েছে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুলকে। সম্পাদক নিবাস হালদার। সর্বশেষ কমিটি একবারও কোন প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারিনি।
ভলিবল পরিষদের সভাপতি জেসটাওয়ারের স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান। বাস্কেটবল পরিষদের সভাপতি ব্যবসায়ী সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল। বেশ কয়েকবছর তিনি এই পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। হ্যান্ডবল ও বাস্কেটবল কোচ মনিরুজ্জামান মিন্টু ও মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকে রাখা হয়নি পরিষদের কোন পদে। সাঁতার পরিষদের রাখা হয়নি জলকন্যা হিসেবে পরিচিত শিলা খাতুনের তৈরির কারিগর কোচ আব্দুল মান্নানকে।
ব্যাডমিন্টন পরিষদের সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন। বক্সিং, বডি বিল্ডিং ও ভারোত্তোলন পরিষদের সভাপতি যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ। দাবা পরিষদের সভাপতি ব্যবসায়ি শরিফুল ইসলাম। এই পরিষদের সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সাহিদ হোসেন লালবাবুকে। সর্বশেষ মেয়াদে অনুষ্ঠিত হয়নি দাবার কোন লিগ বা টুর্নামেন্ট।
জুডো কুস্তি উশু পরিষদের সভাপতি করা হয়েছে মোটর পার্টস ব্যাবসায়ী শাহিনুর রহমান ঠান্ডুকে। টেবিল টেনিস পরিষদের সভাপতি যশোর চেম্বার অব কর্মাসের সাবেক সভাপতি বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান খান। তায়কান্দো পরিষদের সভাপতি চৌগাছা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা দেবাশীষ মিশ্র জয়।
যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবির বলেন, আর্থিক সুবিধার জন্য ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন পদে রাখা হয়। এছাড়া পদে রাখার জন্য ক্ষমতাসীন দলের একটা চাপ থাকে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য
Loading...