পাটকল নিয়ে পজিটিভ সিদ্ধান্ত প্রয়োজন

১৮

পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের ১৪ দফা দাবিতে যশোর-খুলনা মহাসড়কের আটরা শিল্পাঞ্চলে রাজপথ অবরোধ করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ নাগরিক পরিষদের ২৫০ জনের নামে মামলা করেছে। আটক করেছে ১৩ জনকে। পুলিশের অভিযোগ তারা দাবি আদায়ের নামে নাশকতামূলক কাজ করছিল। নাগরিক পরিষদ বলছে দেশের স্বার্থে যশোর-খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রক্ষায় আন্দোলনে নেমে তারা আজ মামলায় ঝুলছেন।
সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নাগরিক পরিষদ রাজপথ-রেল পথ অবরোধ করে এই এলাকার সাথে সারা দেশের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পাটকলের শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে বন্ধ ঘোষিত পাটকলগুলো পুনরায় চালু করা। পাটকলগুলো হলো ক্রিসেন্ট জুটমিল, স্টার জুটমিল, , ইস্টান জুটমিল, খালিশপুর জুটমিল, দৌলতপুর জুটমিল প্লাটিনাম জুটমিল, আলীম জুটমিল, যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ (জেজেআই) ও কার্পেটিং জুট মিল। এসব মিলে ১৩ হাজার ২৭১জন শ্রমিক রয়েছেন। যারা সবাই আজ বেকার। তারা বেকারত্ব সমস্যার পাল্লা ভারী করছে। আজ এ ব্যাপক সংখ্যক শ্রমিকের ঘরে ঘরে হাহাকার। মানবিক বিপর্যয়ের বাস্তব প্রতিচ্ছবি আজ শ্রমিক পাড়ায়।
আমরা নাশকতার পক্ষে নই । আমরা সমর্থন করিনে দাবি আদায়ের নামে কোনো নৈরাজ্যকর অবস্থা সৃষ্টিরও। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী যদি তারা নাশকতামূলক কাজ করে তা হলে সেটা নিন্দনীয়। নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে অন্যের সম্পদ নষ্ট করা কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। ন্যায় সঙ্গত দাবি আদায়ে যখন কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততা পরিলক্ষিত হয় তখন ট্রেড ইউনিয়নগুলো আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে থাকে। আন্দোলনের মানে তো আর জ্বালাও পোড়াও, ভাঙচুর করা নয়। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করা।
আমরা ন্যায় সঙ্গত দাবি বলছি এজন্য যে, ন্যায় সঙ্গত না হলে সরকার এর আগে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিত না। কিন্তু কেন যে এ সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরকার সরে গেল তা কর্তৃপক্ষই জানে।
আমরা পাটকলগুলো চালুর দাবি জানিয়ে বলবো পাটকলগুলো চালু হলে বেকারের ভারে ভারাক্রান্ত দেশে অনেকের কর্মসংস্থান হবে। কমে আসবে বেকারত্বেও চাপ। মিলে পাটজাত তৈরির ফলে পরিবেশের শত্রু পলিথিন বিদায় করতে সহায়ক হবে। বস্তা, ব্যাগ, সপিং ব্যাগ পলিথিনের পরিবর্তে পাটের বস্তা, ব্যাগ ও সপিং ব্যাগ প্রভৃতি বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের ফলে মানুষ ঝুঁকবে এ দিকে। আর কাঁচামালের চাহিদা পূরণে কৃষক পাট উৎপাদনে উৎসাহিত হবে। হারিয়ে যাওয়া অর্থকরী ফসল আবার সমহিমায় ঘুরে দাঁড়াবে। এ বাস্তবতা মেনে নিয়েই পাটকলগুলো চালু করতে হবে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই শ্রমিক ও সরকারকে সামনের দিকে এগোতে হবে।

মন্তব্য
Loading...