মোরেলগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘুষ না দেয়ায় প্রত্যয়নপত্র বঞ্চিত জেলেরা

২২

মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল রহিম বাচ্চুর বিরুদ্ধে ঘুষ ছাড়া জেলেদের প্রত্যয়নপত্র না দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘুষ দিতে না পারায় অর্ধশতাধিক জেলে প্রত্যয়নপত্র পাননি। চেয়ারম্যানের ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে ওই ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলেরা।
জেলেদের অভিযোগ, বনবিভাগের জিউধরা ফরেস্ট স্টেশনের আওতাধীন সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদেরকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে বলে বনবিভাগ। প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের জন্য জেলেরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ. রহিম বাচ্চুর দ্বারস্থ হলে তিনি তথ্যসেবা কেন্দ্র থেকে প্রত্যয়নপত্র প্রস্তÍুত করে তার কাছে জমা দিতে বলেন। সে অনুযায়ী ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র থেকে নিজ নিজ নামে প্রত্যয়নপত্র প্রস্তুত করে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন জেলেরা। চেয়ারম্যান তাদের কাছে প্রতিটি প্রত্যয়নপত্রের বিনিময় ৫শ টাকা করে উৎকোচ চান। টাকা না দিলে প্রত্যায়নপত্রে স্বাক্ষর দিবেন না বলে জানিয়ে দেন। এসময় জেলে আ. বারেক হাওলাদার, রোকন উদ্দিন খান, শুকুর হাওলাদারসহ শতাধিক জেলে নগদ ৫শ টাকা করে উৎকোচ দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করেন। চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে না পারা অসহায় দরিদ্র জেলেরা অনেক অনুনয়-বিনয় করলেও চেয়ারম্যান তাদের প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেননি। ফলে প্রায় অর্ধশত জেলে চেয়ারম্যানকে টাকা দিতে না পেরে স্বাক্ষরবিহীন প্রত্যয়ন নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। টাকা ছাড়া প্রত্যয়নপত্র না দেয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ. রহিম বাচ্চুর বিরুদ্ধে স্থানীয় সংসদ সংসদ, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সিনিয়র মৎস্য অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী জেলেরা ।
এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল রহিম বাচ্চু বলেন, প্রকৃত জেলেদের প্রত্যয়ন দেয়া হয়েছে। যারা প্রকৃত জেলে নয় তাদের প্রত্যয়ন দেয়া হয়নি। অর্থ কিংবা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ সঠিক না।

মন্তব্য
Loading...