গীতি নৃত্যনাট্য ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ মঞ্চস্থ

ছয় মাস পর যশোরের সংস্কৃতি অঙ্গনে প্রাণসঞ্চার

৯৬

প্রণব দাস

মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলা ও বাঙালির এক শ্রেষ্ঠ অর্জন। আর এ অর্জনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে যশোর জেলা। মুক্তিকামী মানুষের অদম্য প্রত্যয়ে দেশের মধ্যে প্রথম শত্রুমুক্ত হয় এই জেলা।
আর এ মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িয়ে রয়েছে ‘যশোর রোড’। তৎকালীন শরণার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্দশা ও যুদ্ধের তথ্যচিত্র নিয়ে মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ রচিত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ ইতিহাসের এক অনন্য দলিল।
মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গের সেই কালজয়ী কবিতা অবলম্বনে শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে উপচে পড়া সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতিতে মঞ্চস্থ হয় ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে এ গীতি নৃত্যনাট্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক মহামারি করোনায় প্রায় ছয় মাস স্থবির থাকা যশোর সংস্কৃতি অঙ্গনে প্রাণসঞ্চার হয়েছে। জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানসহ ছয় শতাধিক সংস্কৃতিপ্রেমী এ পরিবেশনা উপভোগ করেন।
জেলার প্রায় সব কয়টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের শতাধিক শিল্পীদের নিয়ে পরিবেশিত গীতি নৃত্যনাট্য জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক ও সিটি ক্যাবলেও সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এছাড়া করোনার সময় স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভার্চুয়াল ও ক্যাবল টিভির মাধ্যমেও গীতি নৃত্যনাট্যটির মঞ্চায়ন ও প্রচার করা হবে।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলু জানান, সুকুমার দাস গীতি নৃত্যনাট্যটির গ্রন্থনা ও সামগ্রিক পরিচালনা করেছেন। নৃত্যাংশ পরিচালনা করেছেন নৃত্য শিক্ষক সঞ্জীব চক্রবর্তী জন ও খাদিজা ইসলাম। সংগীতাংশ পরিচালনা করেছেন তাওহিদুল ইসলাম ও শায়ন্তনী দেবনাথ। এছাড়া নাট্যাংশ পরিচালনা করেছেন কামরুল হাসান রিপন ও ভিডিও সম্পাদনা করেছেন অসীম সাহা।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহসভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে যশোর রোডের শরণার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্দশা ও যুদ্ধের চিত্র নিয়ে লেখা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ কবিতাটি খান মোহাম্মদ ফারাবি বাংলায় ভাষান্তর করেন। এর অনেক পরে ১৯৯৯ সালে ভারতীয় সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিক কবিতাটি ভাবানুবাদ করে গানে রূপ দেন। আট থেকে সাড়ে আট মিনিটের এই গান নিয়েই নির্মিত হয়েছে গীতি নৃত্যনাট্য ’সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’। যা মঞ্চে ৪৫ মিনিট ধরে উপস্থাপন করা হয়েছে। মঞ্চদৃশ্যে বৃটিশ আমল থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের নিপীড়িত মানুষের হাহাকার ও গণহত্যার দৃশ্যপট মেলে ধরা হয়েছে।
এদিকে বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবে স্থবির হয়ে পড়ার প্রায় ছয় মাস পর যশোরের শিল্পীদের পরিবেশনায় এ গীতি নৃত্যনাট্য মঞ্চায়ন হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা। তারা সকলেই অভিন্নসুরে বলেন, যশোরের সংস্কৃতি অঙ্গনের স্থবিরতা দূরীকরণে স্বল্পপরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এমন উপস্থাপনা অব্যাহত রাখবে এটাই প্রত্যাশা।
দীর্ঘদিন পর যশোরে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন বিষয়ে যশোর জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নাট্য সংগঠন বিবর্তন যশোরের সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু বলেন, আজকের এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংস্কৃতিকর্মীদের দুঃসহ যন্ত্রণাকাল অবসান হলো। তিনি বলেন, শিল্পীদের মঞ্চে ফিরতে পারা এক অন্যরকম ভাললাগা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামীতেও এমন সাংস্কৃতিক কর্মকা- অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, দেশে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার পর ২১ মার্চ থেকে যশোরে শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমিসহ সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে কয়েকটি সংগঠন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে তাদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে।
তবে সাংস্কৃতিক অঙ্গন স্থবির হলেও করোনাকালে যশোরে সংস্কৃতিকর্মীদের উদ্যোগে সামাজিক কর্মকা-ের নানা কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।

মন্তব্য
Loading...