‘যশোরে বন্ধ হবে সব অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক ’

৬৫১

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরে অবৈধভাবে গড়ে উঠা এক-তৃতীয়াংশ ক্লিনিক-হাসপাতাল বাদ যাবে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন। শনিবার দুপুরে যশোর সার্কিট হাউজে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র সভার শুরুতে পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু’র এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সিভিল সার্জন বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে জেলার ১৫০এর অধিক হাসপাতাল ভিজিট করেছি। কিছু হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করেছি। কয়েকটিকে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া যারা রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেছে সেগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। যথাযথ নিয়ম না মানায় যশোরের এক-তৃতীয়াংশ হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া হাসপাতালের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করতে প্রচুর তদবির-সুপারিশ আসে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পরে সিভিল সার্জনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই বক্তব্য নিশ্চিত করেন।
করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র সভাপতি ও জেলা প্রশাসক তজিমুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিভিল সার্জন জানান, বর্তমানে কোভিড-১৯ রোগীদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শনিবার হাসপাতালটিতে সাতজন করোনা রোগী ভর্তি করা হয়েছে। জেনারেল হাসপাতাল ছাড়াও যশোরের কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকেও চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যশোরের বক্ষব্যাধি হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা জোরদার করার জন্যও সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করার জন্য যানবাহন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া গত মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যশোরের যেকোন স্থানে ‘নো মাস্ক নো এন্ট্রি’ বিষয়টি বিজ্ঞপ্তি বা লিফলেট আকারে জেলার বিভিন্ন অফিস-আদালত, মার্কেটে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই সাথে জনসমাগম স্থানে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা আকারে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের আইসিইউ সুযোগ নিশ্চিতে আরও এক মাস সময় লেগে যেতে পারে। এছাড়া করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের আইসোলেশন ব্যবস্থা, যাতায়াত, খাওয়া-দাওয়া বাবদ স্বাস্থ্যবিভাগের কাছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, এনএসআই’র যশোরের উপ-পরিচালক কবির আহম্মদ, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর আবু মাউদ।

মন্তব্য
Loading...