চাকরিচ্যুত শিক্ষকের নিয়োগ বৈধ করতে অপতৎপরতা!

রাসবিহারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়

৯৯

উৎপল দে, কেশবপুর

যশোরের কেশবপুরে শতবর্ষী বিদ্যানন্দকাটি রাসবিহারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক চাকরিচ্যুত দুই শিক্ষকের নিয়োগ বৈধ করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য আকবর আলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।
আকবর আলী অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, বিদ্যালয়ের জাল নিবন্ধন সনদের দায়ে চাকরিচ্যুত দুই শিক্ষকের নিয়োগ বৈধ করতে তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র আত্মসাত করে উল্টো থানায় ডায়েরি করেছেন প্রধান শিক্ষক।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ১ জুলাই মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বেলালী ইসলাম ধর্ম শিক্ষক ও ২০১২ সালের ১৯ মার্চ ফাহমিদা নাসরিন সহকারি শিক্ষক (বিজ্ঞান) হিসেবে বিদ্যানন্দকাটি রাসবিহারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ২০১২ সালের নভেম্বরে ওই নিবন্ধনেই তাদের এমপিওভূক্ত হয়। এ সময় তাদের দু’জনের নিবন্ধন সনদকে চ্যালেঞ্জ করে বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য আকবর আলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি এনটিআরসিএয়ের সহকারি পরিচালক লোকমান হোসেন এক স্মারকে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ সঠিক নয় মর্মে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পত্র প্রেরণ করেন। এরই ভিত্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের চাকরিচ্যুত করে এবং এ যাবৎ উত্তোলিত সরকারি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়।
এরপর প্রধান শিক্ষক ক্যাশ খাতা, রেজুলেশন খাতাসহ নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র হারিয়ে গেছে; উল্লেখ করে ২৫ মার্চ কেশবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ২৬ জুন প্রধান শিক্ষক অবসরে যান। ১২ জুলাই একই ঘটনায় ওই প্রধান শিক্ষক থানায় আরও একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। একই ঘটনায় থানায় দু’টি সাধারণ ডায়েরি হওয়ার খবর এলাকায় রটে গেলে ২৩ আগস্ট এ সাধারণ ডায়েরি উদ্দেশ্যমূলক দাবি করে অভিভাবক সদস্য আকবর আলী অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান খান ক্যাশ খাতা, রেজুলেশন খাতাসহ নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র হারিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বর্তমান ওই দুই শিক্ষকের বেতনভাতা বন্ধ রয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ওই বিদ্যালয়ের কাগজপত্র হারিয়ে গেছে মর্মে থানায় মিথ্যা ডায়েরি সংক্রান্ত একটি অভিযোগপত্র পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য
Loading...