সরকারি ঘোষণা উপেক্ষা করে উচ্চ মাধ্যমিকে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়

0 ৫৩

দুর্নীতি ছাড়া আর যেন কোনো কথা নেই। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির কথাটা কেউ সহজে মানতে পারেন না। কেননা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো মানুষ গড়ার কারিগরি প্রতিষ্ঠান। এখানে যদি দুর্নীতি হয় তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মানুষ হবে কি করে? কিন্তু ও সব নীতি কথা এখন আর কেউ মানছেন না। অর্থনৈতিক অসম প্রতিযোগিতায় পাল্লা দিয়ে চলতে গিয়ে আজ মানুষ গড়ার কারিগররা আদাজল খেয়ে দুর্নীতিতে নেমেছেন। আর তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট ব্যাপার হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার ফি আদায় করা হচ্ছে বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে চার-পাঁচগুণ বেশি। এবার আবার যশোরের মণিরামপুর সরকারি কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে যে হীন মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে তা বলতেও ঘৃণা জাগে। কলেজে সরকার নির্ধারিত ভর্তি ফি এক হাজার টাকার জায়গায় নেয়া হচ্ছে এক হাজার ৬৫০ টাকা। এর মধ্যে ভর্তি ফি বাবদ দেড় হাজার টাকা এবং ভর্তি ফরম বাবদ ১৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদে ইতোমধ্যে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। নেয়া অতিরিক্ত টাকা ২৪ ঘন্টার মধ্যে ফেরত দেয়ারও দাবি জানানো হয়।
শুধু মণিরামপুর সরকারি কলেজ নয়, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন অবাধ দুর্নীতি চলছে। যখন শিক্ষা চালু ছিল তখন গাইড বইয়ের যে ব্যবসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে তা সুশিক্ষায় শিক্ষিত কোনো মানুষ করতে পারে না। এতেই প্রমাণিত হয় এখন যারা শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত আছেন তারা কেউই সুশিক্ষায় শিক্ষিত মানবিক গুণসম্পন্ন শিক্ষক নন। তারা কোন আক্কেলে শিক্ষার্থীদের গাইড বই পড়ান তা ভাবতে অবাক লাগে। এমনও শোনা যায়, শিক্ষক ক্লাসে যে বইটি পড়ান সেটি টেক্সট বুক নাকি গাইড বই তা তিনি নিজেই জানেন না। এর চেয়ে লজ্জাজনক বা দুঃখজনক ঘটনা আর কি থাকতে পারে। এখন অহরহ শোনা যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য একটা বড় ধরনের ঝামেলাহীন বাণিজ্য। ঝুঁকি নেই, পুঁজি হারানোর ভয় নেই, পদ শূন্য হলে ৫, ১০, ১৫ লাখ টাকায় পকেট পূর্তির একটা মওকা জুটে যায় কর্তৃপক্ষের। এত টাকার দৌড়ে মেধাবীরা ছিটকে পড়ছেন। সুযোগ পাচ্ছে মেধাহীনরা। তারাই যখন চেয়ারে বসছেন তখন তারা আর ভালো-মন্দ বিচার বিশ্লেষণে যাচ্ছেন না।
যে কোনো মূল্যে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার দাবি জানাই। সুশিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ যেখান থেকে তৈরি হয় সেই জায়গাটা যদি স্বচ্ছ থাকে, তাহলে সেখান থেকে সাদা মনের মানুষ বেরুবে, যারা কর্মক্ষেত্রে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপনে অগ্রণী হবে।

মন্তব্য
Loading...