নৌকার মনোনয়ন যুদ্ধে অন্তত ছয় নেতা, অন্ধকারে বিএনপি

0 ১,১৭৭

দেবু মল্লিক

আগামী ২০ অক্টোবর যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন থেকে সোমবার তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরপরই আওয়ামী লীগের অন্তত ছয় নেতার কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরব হয়ে উঠেছেন। একই সাথে নেতারাও দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে বিএনপি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে এখনো দলটির যশোরের শীর্ষ নেতারা রয়েছেন অন্ধকারে।
আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য নেতারা বলছেন, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ২৬ সেপ্টেম্বর দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধপ্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ৩ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। আর ২০ অক্টোবর ভোটগ্রহণ করা হবে।
সেই হিসেবে আগামী সাতদিনের মধ্যে অর্থাৎ ২৩ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই আওয়ামী লীগসহ সব দলের মনোনীত প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। হাতে সময় অল্প থাকায় আওয়ামী লীগের অধিকাংশ সম্ভাব্য প্রার্থী আজই ঢাকায় যাচ্ছেন।
চলতি বছর মার্চে যশোর-৬ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। ওই নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তখন নির্বাচন কমিশন থেকে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। মূলত তখন থেকেই আওয়ামী লীগের নেতারা সদর উপজেলার উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা তদবির শুরু করেন। আর সোমবার তফসিল ঘোষণার পর সেই তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছেন। একই সাথে তাদের নেতাকর্মীরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরব হয়েছেন। তারা স্ব স্ব নেতার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দলের সাথে আছি। তৃনমূল নেতাকর্মীদের সাথে সবসময় যোগাযোগ রেখে চলি। আশা করি এই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবো। দলীয় মনোনয়ন পেলে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। বুধবার আমি ঢাকায় যাবো।’
যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। এজন্য তিনি বেশ কিছুদিন ধরে তৎপরতা চালাচ্ছেন। তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের কর্মীরা তার পক্ষে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির কবু বলেন, ‘দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবো। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে আছি। পারিবারিক কারণে কখনো কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাইনি। এখন আমি স্বাধীনভাবে জনগণের সেবা করতে পারবো। এজন্য দলীয় মনোনয়ন চাইবো।’
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মিন্টু বলেন, ‘নির্বাচন করতে দলীয় মনোনয়ন চাইবো। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব।’
জেলা মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি, সদর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরজাহান ইসলাম নীরা বলেন, ‘৪০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে আছি। আশির দশকের শুরুতে ছাত্রলীগের মাধ্যমে এই রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। এই জন্য আমি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। দলীয় মনোনয়ন পেলে অবশ্যই আমি বিজয়ী হবো।’
যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল বলেন, ‘দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে রাজপথে ছিলাম। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় নেত্রীকে অবৈধভাবে আটক করা হলে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে যশোরে প্রথম আমি মিছিল বের করি। এছাড়া আমি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। তাই আশা করি আমি দলীয় মনোনয়ন পাবো। আর মনোনয়ন পেলে অবশ্যই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবো।’
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমরা অংশ নেব কিনা এ ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলে কে প্রার্থী হবেন সেই বিষয়ে আলোচনা হবে। এখন এর থেকে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’

মন্তব্য
Loading...