অনুমতি ছাড়াই আজ শুরু হচ্ছে চৌগাছার বলুর মেলা!

0 ১৬৫

আবু জাফর, চৌগাছা

যশোরের চৌগাছায় পীর বলুহ দেওয়ানের ওরস উপলক্ষে ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার মেলা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এ বছর করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে মেলার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। কিন্তু একটি মহল মেলার অনুমতি পেয়েছে এমন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে স্টল বাণিজ্যে ও নানা অসঙ্গতির মধ্য সব প্রস্তুতি শেষে আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু করছে মেলা।
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, আমি শুনেছি বলুহ দেওয়ানের ওরস উপলক্ষে স্বাভাবিকভাবে সেখানে লোকসমাগম হয়। সেখানে কিছু দোকানপাট বসে। সেই হিসেবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি নিয়ে মেলার আয়োজন করেন স্থানীয়রা। এ বছরে করোনার কারণে এখানে মেলার কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি।

সারাবিশ্বে করোনা মহামারি থেকে বাঁচতে একের পর এক স্বাস্থ্যবিধি মানতে বিভিন্ন দেশে সরকারি নির্দেশ জারি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও এই করোনা মহামারি থেকে বাঁচতে সর্বদা স্বাস্থ্যবিধি মানতে সরকারিভাবে বিভিন্নভাবে নির্দেশনা জারি করেছে। সে কারণেই উপজেলার লাখো জনগণের জীবন বাঁচাতে মেলা না করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম হাবিবুর রহমান ও উপজেলা চেয়ারম্যান ড. মোস্তানিছুর রহমানসহ উপজেলার বিশিষ্টজনেরা।
প্রতি বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার চৌগাছা উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ তীরবর্তী হাজরাখানা গ্রামে ঐতিহ্যবাহী পীর বলুহ দেওয়ানের ওরসের সময় স্থানীয়রা যশোর জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে মেলার আয়োজন করে থাকেন।
মেলা আয়োজক কমিটি যশোরের জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে এ বছরে করোনার কারণে সোমবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মেলার অনুমতি পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন মুকুল বলেন, আমি চাই না আমার ইউনিয়নসহ উপজেলাবাসী করোনা আক্রান্ত হোক। এ বছর করোনার ঝুঁকি নিয়ে মেলার আয়োজন করা উচিত হবে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছা. নুৎফুন্নাহার লাকি বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো মানুষের সমাগম হবে মেলায়। এতে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যে কারণে মেলা বন্ধ রাখা উচিত।
চৌগাছা উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক দেবাশীষ মিশ্র জয় বলেন, যে করোনার ভয়ে ঈদের জামাত এবং দুর্গাপূজার মতো ধর্মীয় উৎসব পালনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে সেখানে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে মেলার আয়োজন করাটা বোকামি।
এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, করোনা থেকে বাঁচতে এবং সাধারণ জনগণকে বাঁচাতে এ বছর এ মেলার অনুমতি দেয়া হয়নি। অনুমতি ছাড়াই যারা অবৈধভাবে মেলার আয়োজন করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ওসি সাহেবকে বলেছি। প্রয়োজনে আমি নিজে সেখানে যাব।
চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব বলেন, এখনও মেলার অনুমতি হয়নি। অনুমতি ছাড়া মেলা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমি কিছু সময়ের মধ্যে সেখানে যাব। বলুহ দেওয়ানের ওরসস্থলে যদি মেলা উপলক্ষে কোনো স্টল দেয়া হয় তাহলে সরিয়ে দেয়া হবে।

মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মিলন বলেন, এখন পর্যন্ত মেলার অনুমতি পাওয়া যায়নি। আজ মঙ্গলবার যশোরের এসপি মহোদয় আসতে চেয়েছেন। আসার পরে যদি অনুমতি দেন তাহলে মেলা হবে অন্যথায় সুযোগ নেই। মেলার অনুমতির আগেই জায়গা বরাদ্দ দিয়ে টাকা নেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, কারো কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেয়া হয়নি।

মন্তব্য
Loading...